AIinBangla

AI দিয়ে আর্টিকেল লেখার নিয়ম, ছয় ধাপে

AI দিয়ে আর্টিকেল লেখার পদ্ধতি নিয়ে লেখা

AI দিয়ে আর্টিকেল লেখার কাজে সবচেয়ে বড় ভুল হলো “একটা আর্টিকেল লিখে দাও” বলা। যা আসে সেটা পড়তে ঠিকঠাক লাগে, কিন্তু কেউ শেষ পর্যন্ত পড়ে না আর Google-ও তুলে ধরে না। ভালো আর্টিকেল আসে যখন আপনি লেখাটা ছয়টা ধাপে ভাগ করেন আর প্রতিটা ধাপে AI-কে আলাদা কাজ দেন।

এক নজরে

  • একবারে পুরো আর্টিকেল না চেয়ে আগে কাঠামো চান, তারপর অংশ ধরে ধরে লেখান।
  • পাঠক কী জানতে এসেছে সেটা প্রথম অনুচ্ছেদেই বলে দিতে হবে, ভূমিকা টেনে না।
  • AI-এর প্রথম খসড়ায় নিজের উদাহরণ আর অভিজ্ঞতা যোগ না করলে লেখাটা গড়পড়তা থেকে যায়।
  • তথ্য, সংখ্যা আর নাম নিজে যাচাই করুন, AI এগুলো বানিয়ে ফেলতে পারে।
  • বাংলায় লেখানোর সময় কথ্য ভাষা চেয়ে নিন, নাহলে বইয়ের মতো ভারী হয়ে যায়।

কেন “একটা আর্টিকেল লিখে দাও” কাজ করে না

AI-কে একটা বড় কাজ একবারে দিলে সে গড় জিনিস বানায়, কারণ তার কাছে বেছে নেওয়ার কোনো ভিত্তি নেই। কার জন্য লিখছেন, পাঠক কতটা জানে, কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, কিছুই সে জানে না। ফলে সব বিষয়ে একটু একটু করে লেখে, যাকে বলে নিরাপদ কিন্তু অকেজো লেখা।

ভাগ করে দিলে ব্যাপারটা বদলে যায়। প্রতিটা ধাপে তার কাজ ছোট আর স্পষ্ট, আর প্রতিটার জন্য তৈরি প্রম্পট ব্যবহার করা যায়, আর প্রতিটা ধাপের পর আপনি ঠিক করতে পারেন কোন দিকে যাবে। লেখাটা তখন আপনার, AI শুধু টাইপ করছে।

ছয় ধাপের কাঠামো

০১পাঠক ঠিক করুনকে পড়বে, সে কতটুকু জানে, আর কোন প্রশ্নটা নিয়ে এসেছে। এক লাইনে লিখে ফেলুন।
০২প্রশ্ন জোগাড় করুনএই বিষয়ে মানুষ আসলে কী জিজ্ঞেস করে। AI-কে দিয়ে ২০টা প্রশ্ন বানান, তারপর সবচেয়ে দরকারি ৭টা বাছুন।
০৩কাঠামো বানানশুধু শিরোনামগুলো। লেখা না। কাঠামো পছন্দ না হলে এখানেই ঠিক করে নিন, পরে না।
০৪অংশ ধরে লেখানএক শিরোনাম, এক প্রম্পট। প্রতিটার শেষে পড়ে দেখুন।
০৫নিজের জিনিস যোগ করুনউদাহরণ, সংখ্যা, নিজের অভিজ্ঞতা। এই ধাপটাই লেখাটাকে আলাদা করে।
০৬কেটে ছোট করুনপ্রথম খসড়া সবসময় লম্বা হয়। যে বাক্যটা না থাকলেও চলে, সেটা বাদ।
প্রথম তিনটা ধাপে সময় দিলে শেষ তিনটা দ্রুত হয়ে যায়। উল্টোটা করলে বারবার লিখতে হয়।

প্রথম অনুচ্ছেদ: এখানেই পাঠক থাকে বা চলে যায়

বাংলা ব্লগে একটা অভ্যাস খুব চলে, শুরুতে ভূমিকা টানা। “বর্তমান যুগে প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে…” এই ধরনের দুই অনুচ্ছেদ পড়ে পাঠক ফিরে যায়, কারণ সে যা খুঁজতে এসেছিল তা এখনো পায়নি।

যেটা কাজ করে সেটা হলো প্রথম তিন লাইনেই উত্তরটা দিয়ে দেওয়া। তারপর বাকি লেখায় সেটা খুলে বলা। পাঠক যদি প্রথম অনুচ্ছেদ পড়েই উত্তর পেয়ে চলে যায়, সেটা খারাপ না, সেটা ভালো লেখার প্রমাণ। আর যাদের বিস্তারিত দরকার, তারা থাকবে।

যে ভুলটা প্রায় সবাই করে: AI-এর লেখা প্রথম খসড়াটা হুবহু প্রকাশ করে দেওয়া। ওই লেখায় কোনো ভুল থাকে না, কিন্তু কিছুই থাকে না যা অন্য কোথাও নেই। পাঠক আর সার্চ ইঞ্জিন দুটোই সেটা বুঝতে পারে।

যে জিনিসগুলো AI দিতে পারে না

এটাই আসল কথা। AI ইন্টারনেটে যা আছে তার গড় জানে। যা নেই, সেটা সে জানে না। আর ঠিক সেই না জানা জিনিসগুলোই আপনার লেখাকে অন্যদের চেয়ে ভালো বানায়।

যা যোগ করবেন কেন এটা কাজ করে
নিজের চেষ্টার ফল “আমি তিনভাবে চেষ্টা করে দেখেছি, দ্বিতীয়টা কাজ করেছে” এই লাইন AI লিখতে পারে না
বাংলাদেশের বাস্তব সংখ্যা দাম, সময়, স্থানীয় নিয়ম। বিদেশি লেখা থেকে অনুবাদ করা তথ্য এখানে খাটে না
কী কাজ করেনি ব্যর্থতার কথা প্রায় কেউ লেখে না, আর পাঠক এটাই সবচেয়ে বেশি খোঁজে
স্ক্রিনশট বা নিজের ছবি প্রমাণ, আর এটা কপি করা যায় না
পাঠকের করা প্রশ্ন কমেন্টে বা ইনবক্সে যে প্রশ্ন এসেছে, সেটার উত্তর দিলে লেখা জীবন্ত হয়

Google আসলে কী দেখে

একটা ভয় খুব চলে যে AI দিয়ে লিখলে Google শাস্তি দেয়। এই প্রশ্নটা নিয়ে আলাদা একটা লেখা আছে। ব্যাপারটা তা না। Google-এর নিজের কথা অনুযায়ী তারা দেখে লেখাটা মানুষের কাজে লাগে কিনা, কে বা কী দিয়ে লেখা হয়েছে তা না।

সমস্যা হয় অন্য জায়গায়। AI দিয়ে দ্রুত অনেক লেখা বানিয়ে ছেড়ে দিলে সেগুলো একই রকম আর অগভীর হয়, আর সেটাই ধরা পড়ে। একটা ভালো লেখা দশটা গড় লেখার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করে, এটা AI-এর আগেও সত্যি ছিল, এখনো।

বাংলায় লেখানোর সময়ের নিয়মগুলো

বাংলায় AI-কে দিয়ে লেখালে কয়েকটা জিনিস আলাদা করে বলতে হয়, নাহলে আউটপুট পড়তে ভারী লাগে।

কথ্য ভাষা চাননা বললে সাধু ভাষা বা অনুবাদের মতো বাংলা আসে। “যেভাবে মানুষ বলে সেভাবে লেখো” বলে দিন।
ইংরেজি শব্দ রাখতে বলুনইনকাম, স্কিল, কনটেন্ট, ক্লায়েন্ট। জোর করে বাংলা করলে অস্বাভাবিক শোনায়।
বাক্য ছোট রাখতে বলুনবাংলায় AI লম্বা বাক্য লেখে, তাতে পড়ার গতি কমে যায়।
উদাহরণ দিয়ে বোঝাননিজের পুরনো লেখার দুই অনুচ্ছেদ দিয়ে বলুন এই সুরে লিখতে। বর্ণনার চেয়ে এটা ভালো কাজ করে।
চারটার সবগুলো একসাথে দিলে প্রথম খসড়াই অনেক কাছাকাছি আসে।

কতক্ষণ লাগে, বাস্তবে

একটা কাজের মতো ১২০০ শব্দের বাংলা আর্টিকেলে প্রথম দিকে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে। অভ্যাস হয়ে গেলে এক ঘণ্টার কাছাকাছি নামে। এর মধ্যে AI-এর লেখার সময় দশ মিনিটও না, বাকি পুরোটা আপনার সিদ্ধান্ত নেওয়া, যাচাই করা আর কাটাকাটি।

যারা বলেন AI দিয়ে দশ মিনিটে আর্টিকেল হয়, তাদের কথা মিথ্যা না, কিন্তু ওই লেখাটা কেউ পড়ে না। পার্থক্যটা এখানেই।

সচরাচর প্রশ্ন

AI দিয়ে লেখা আর্টিকেল কি Google-এ র‍্যাঙ্ক করে?
করে, যদি লেখাটা আসলেই কাজের হয়। Google দেখে পাঠকের উপকার হচ্ছে কিনা। সমস্যা হয় যখন প্রথম খসড়া হুবহু প্রকাশ করা হয়, কারণ সেটা অন্য দশটা লেখার মতোই হয়।
কোন AI টুল দিয়ে লিখব?
লম্বা লেখায় Claude সাধারণত ভালো সুর ধরে রাখে, ChatGPT আর Gemini-ও কাজ করে। টুলের চেয়ে প্রম্পটের কাঠামো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, একই টুলে ভালো প্রম্পট দিলে ফল আলাদা আসে।
AI ডিটেক্টর ধরে ফেলবে না?
ডিটেক্টরগুলো নির্ভরযোগ্য না, মানুষের লেখাকেও AI বলে চিহ্নিত করে। ওটা নিয়ে চিন্তা না করে লেখাটা কাজের কিনা সেদিকে সময় দিন। নিজের উদাহরণ আর অভিজ্ঞতা যোগ করলে ব্যাপারটা এমনিতেই মিটে যায়।
কত শব্দের আর্টিকেল ভালো?
বিষয়ের উপর নির্ভর করে। একটা সহজ প্রশ্নের উত্তর ৬০০ শব্দে হয়ে গেলে জোর করে ২০০০ বানানোর দরকার নেই। শব্দ বাড়ালে র‍্যাঙ্ক বাড়ে না, প্রশ্নের সম্পূর্ণ উত্তর দিলে বাড়ে।
ক্লায়েন্টের জন্য AI দিয়ে লিখে দেওয়া কি ঠিক?
ক্লায়েন্ট ভালো লেখা চায়, প্রক্রিয়া না। তবে জিজ্ঞেস করলে লুকাবেন না। আর যা দিচ্ছেন তার তথ্য যাচাই করার দায়িত্ব আপনার, ওটা এড়ানো যায় না।
একটা আর্টিকেল লিখে কত টাকা পাওয়া যায়?
বাংলাদেশে বাংলা কনটেন্টের রেট লেখার মান আর বিষয়ের উপর নির্ভর করে অনেক বদলায়। শুরুতে কম রেটে কাজ ধরে, নমুনা দেখিয়ে দাম বাড়ানোই স্বাভাবিক নিয়ম। ভালো লেখার নমুনা থাকলে দর কষাকষি সহজ হয়।
প্রতিদিন কয়টা আর্টিকেল লেখা উচিত?
সংখ্যার চেয়ে ধারাবাহিকতা বেশি কাজ করে। সপ্তাহে দুটো ভালো লেখা মাসে বিশটা দুর্বল লেখার চেয়ে অনেক এগিয়ে দেয়, বিশেষ করে নিজের সাইটের ক্ষেত্রে।

হাতে কলমে শিখতে চাইলে

কাঠামো বানানো থেকে শুরু করে অংশ ধরে লেখানো আর সম্পাদনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটা সরাসরি করে দেখানো আছে কোর্সের আর্টিকেল রাইটিং সেশনে।

গাইডটা পড়ুন

বিষয়
নাসির উদ্দিন শামীম
লেখক

নাসির উদ্দিন শামীম

ঢাকা থেকে বলছি। ইন্টারনেট মার্কেটিং করি, আর নতুন কোনো এআই টুল বের হলেই সেটা ধরে দেখি কাজে লাগে কি না। যেটা সত্যিই কাজের, সেটা নিয়ে ফেসবুক আর ইউটিউবে কথা বলি। এখানে সেই জিনিসগুলোই গুছিয়ে শেখানোর চেষ্টা করি, যাতে আপনি নিজেও কাজে লাগাতে পারেন।

পড়া শেষ?

লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে

৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।

Nasir Uddin Shamim

Nasir Uddin Shamim

Typically replies within 5-10 minutes.

I will be back soon

Nasir Uddin Shamim
Hey there 👋
It’s your friend Nasir Uddin Shamim. How can I help you?