AI দিয়ে ভিডিও অ্যাড বানানোর নিয়ম, যেটা আসলে বিক্রি আনে
AI দিয়ে ভিডিও অ্যাড বানানোর আসল কাজটা ভিডিও বানানো না, বরং কী বলবেন সেটা ঠিক করা। একটা সুন্দর ভিডিও যদি ভুল কথা বলে, সেটা টাকা নষ্ট করে। একটা সাদামাটা ভিডিও যদি ঠিক সমস্যাটা ধরে, সেটা বিক্রি আনে। AI দুটোই বানাতে পারে, তাই সিদ্ধান্তটা আপনার।
এক নজরে
- অ্যাডের প্রথম তিন সেকেন্ডে ক্রেতার সমস্যাটা দেখা না গেলে বাকি ভিডিও কেউ দেখে না।
- একটা অ্যাড বানিয়ে চালানোর চেয়ে তিনটা ভিন্ন শুরু বানিয়ে পরীক্ষা করা অনেক সস্তা।
- প্রোডাক্টের ছবি এক রাখা, প্যাকেট আর রং সব দৃশ্যে একই, নাহলে ক্রেতা সন্দেহ করে।
- বাংলাদেশে স্ট্যাটিক ছবির অ্যাড এখনো ভিডিওর চেয়ে সস্তায় বেশি কাজ করে অনেক ক্ষেত্রে।
- যা নেই তা দেখানো যাবে না। AI দিয়ে বানানো মিথ্যা দৃশ্য অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সবচেয়ে সহজ উপায়।
অ্যাড আর কনটেন্ট এক জিনিস না
কনটেন্ট দেখে মানুষ কারণ সে দেখতে চেয়েছে। অ্যাড সে দেখে কারণ অ্যাডটা তার সামনে এসে পড়েছে, আর সে যেকোনো মুহূর্তে সরিয়ে দিতে পারে। এই একটা পার্থক্যই পুরো কাঠামো বদলে দেয়।
কনটেন্টে ধীরে শুরু করা যায়। অ্যাডে যায় না। অ্যাডে প্রথম তিন সেকেন্ডে হয় ক্রেতার সমস্যাটা দেখাতে হবে, নয়তো এমন কিছু যা চোখ আটকায়। যারা অ্যাডের শুরুতে লোগো বা “আমাদের প্রতিষ্ঠান” দেখান, তারা টাকা দিয়ে মানুষকে সরিয়ে দেন।
বানানোর আগে যে চারটা জিনিস লিখে ফেলতে হবে
স্ট্যাটিক না ভিডিও, কোনটা আগে
একটা কথা অনেকে বলে না। বাংলাদেশে ছোট ব্যবসার জন্য ভালো একটা স্ট্যাটিক ছবির অ্যাড অনেক সময় ভিডিওর চেয়ে বেশি কাজ করে, আর বানাতে সময় লাগে দশ ভাগের এক ভাগ। ভিডিও দরকার হয় তখন, যখন জিনিসটা ব্যবহার করে দেখাতে হয়।
| কী বিক্রি করছেন | কোনটা আগে | কেন |
|---|---|---|
| জামা, গয়না, ঘর সাজানোর জিনিস | স্ট্যাটিক | দেখতে কেমন সেটাই সব, নড়াচড়ায় বাড়তি কিছু যোগ হয় না |
| রান্নার জিনিস, যন্ত্রপাতি, গ্যাজেট | ভিডিও | কীভাবে চলে সেটা দেখলে সন্দেহ কমে |
| কোর্স, সেবা, পরামর্শ | ভিডিও, মুখ দেখিয়ে | মানুষ মানুষকে বিশ্বাস করে, ব্র্যান্ডকে না |
| খাবার | ভিডিও, ছোট | ধোঁয়া, গলে যাওয়া, ভাঁজ খোলা, এগুলো স্থির ছবিতে আসে না |
টাকা কম থাকলে স্ট্যাটিক দিয়ে শুরু করুন, কোন কথাটা কাজ করে সেটা বের করুন, তারপর সেই কথাটা নিয়ে ভিডিও বানান। উল্টোটা করলে খরচ বেশি হয়।
প্রম্পট: দৃশ্য ধরে ধরে, পুরো অ্যাড একবারে না
“আমার প্রোডাক্টের একটা অ্যাড বানাও” বললে AI যা দেয় তা দিয়ে কিছু হয় না। যেটা কাজ করে সেটা হলো অ্যাডটাকে চার থেকে পাঁচটা দৃশ্যে ভাগ করে প্রতিটার জন্য আলাদা প্রম্পট লেখা।
প্রতিটা দৃশ্যের প্রম্পটে চারটা জিনিস থাকা দরকার: কী দেখা যাচ্ছে, ক্যামেরা কোথায়, আলো কেমন, আর কতক্ষণের। শেষ জিনিসটা মানুষ ভুলে যায়, ফলে সব দৃশ্য একই দৈর্ঘ্যের হয়ে যায় আর অ্যাডটা যান্ত্রিক লাগে।
যে ভুলটা প্রায় সবাই করে: প্রোডাক্টটা AI দিয়ে নতুন করে বানানো। ক্রেতা যেটা হাতে পাবে আর অ্যাডে যেটা দেখল, দুটো এক না হলে রিটার্ন আসে আর রিভিউ খারাপ হয়। প্রোডাক্টের নিজের ছবি ব্যবহার করুন, AI দিয়ে শুধু আশপাশটা বানান। ছবি বানানোর প্রম্পট কীভাবে লিখবেন সেটা আলাদা লেখায় আছে।
প্রোডাক্ট এক রাখার কাজটা
এটাই AI অ্যাডের সবচেয়ে কঠিন অংশ। কৌশলটা পুরোটা লেখা আছে চেহারা আর জিনিস এক রাখার নিয়মে। প্রতিটা দৃশ্যে প্যাকেটের রং, লেখা আর আকার এক থাকতে হবে। AI নিজে থেকে প্রতিবার একটু করে বদলে ফেলে, আর ক্রেতার চোখ সেটা ধরে ফেলে, এমনকি সে বুঝতে না পারলেও অস্বস্তি হয়।
সমাধান হলো প্রোডাক্টের একটা ভালো ছবি তুলে সেটাকেই রেফারেন্স হিসেবে প্রতিটা দৃশ্যে দেওয়া, নতুন করে বর্ণনা না দিয়ে। আর যেসব দৃশ্যে প্রোডাক্ট খুব কাছ থেকে দেখানোর দরকার, সেখানে AI-এর বদলে ফোনে তোলা আসল ছবি বসিয়ে দিন। মিশিয়ে ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে কাজের।
একটা না, তিনটা বানান
অ্যাডের কাজে সবচেয়ে দামি ভুল হলো একটা অ্যাড বানিয়ে তার পেছনে সব টাকা ঢালা। কোন কথাটা মানুষ ধরবে সেটা আগে থেকে কেউ জানে না, অভিজ্ঞ মানুষও না।
যেটা করা উচিত: একই প্রোডাক্টের জন্য তিনটা আলাদা শুরু বানান। একটায় সমস্যা দিয়ে শুরু, একটায় রেজাল্ট দিয়ে শুরু, একটায় দাম বা অফার দিয়ে শুরু। বাকি অংশ একই রাখুন। অল্প টাকায় তিনটাই চালান, তারপর যেটা চলছে তার পেছনে বাকিটা দিন। AI দিয়ে এই তিনটা বানাতে বাড়তি সময় লাগে আধা ঘণ্টা, আর এতে যে টাকা বাঁচে সেটা অনেক বেশি।
যেসব নিয়ম না মানলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়
ফেসবুক আর ইউটিউব দুই জায়গাতেই কিছু কথা আছে যেগুলো লেখা বা দেখানো যায় না। AI দিয়ে বানানো বলে ছাড় নেই, বরং AI দিয়ে বানানো ভুয়া দৃশ্য ধরা পড়া এখন সহজ।
| যা করবেন না | কেন |
|---|---|
| আগে ও পরের ভুয়া ছবি | স্বাস্থ্য বা ত্বকের ক্ষেত্রে এটা সরাসরি নিষিদ্ধ |
| নিশ্চিত রেজাল্টের প্রতিশ্রুতি | “সাত দিনে ফর্সা”, “গ্যারান্টি সহ ইনকাম”, এগুলোতে অ্যাড বন্ধ হয় |
| আসল মানুষের চেহারা অনুমতি ছাড়া | AI দিয়ে চেনা মুখ বানানো আইনি ঝামেলা তৈরি করে |
| ভুয়া রিভিউ বা ভুয়া ক্রেতা | ধরা পড়লে পেজ সহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে |
| যা প্রোডাক্টে নেই তা দেখানো | রিটার্ন বাড়ে, আর প্ল্যাটফর্ম অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয় |
প্রথম অ্যাডটা যেভাবে বানাবেন
সচরাচর প্রশ্ন
ভিডিও অ্যাড কত সেকেন্ডের হওয়া উচিত?
মুখ না দেখিয়ে অ্যাড বানানো যায়?
বাংলা না ইংরেজি, কোন ভাষায় লিখব?
কত টাকা দিয়ে অ্যাড শুরু করা উচিত?
AI দিয়ে বানানো অ্যাড ফেসবুক ধরতে পারে?
একই অ্যাড কতদিন চালানো যায়?
অন্যের জন্য অ্যাড বানিয়ে দেওয়া যায়?
হাতে কলমে শিখতে চাইলে
প্রম্পট কাঠামো থেকে শুরু করে দৃশ্য তৈরি, প্রোডাক্ট এক রাখা আর ফেস সোয়াপ পর্যন্ত পুরো অ্যাড বানানোর প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে দেখানো আছে কোর্সে।
সম্পর্কিত লেখা
লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে
৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।