এই লেসন শেষে আপনার হাতে থাকবে: আশেপাশের ২০টা Local Business বা ফেসবুক পেজের একটা লিস্ট, প্রত্যেকটার পাশে একটা চোখে পড়া সমস্যা, আর একটা সহজ অফার লাইন যেটা দিয়ে কথা শুরু করবেন। সময় লাগবে এক থেকে দেড় ঘণ্টা।
প্রথম ক্লায়েন্ট কেন কাছের মানুষ
অনেকে প্রথম দিনেই বিদেশি ক্লায়েন্ট খোঁজেন। মার্কেটপ্লেসে প্রোফাইল খোলেন, তারপর মাসের পর মাস অপেক্ষা করেন। সেখানে আগে থেকেই অনেক মানুষ আছে যাদের রিভিউ আছে, আর কথা বলতে হয় ইংরেজিতে।
আপনার এলাকার কাপড়ের দোকান, কেকের পেজ, রেস্টুরেন্ট বা কোচিং সেন্টারের ব্যাপারটা আলাদা:
- বাংলায় কথা বলা যায়।
- দরকার হলে সামনে গিয়ে দেখা করা যায়, তাই বিশ্বাস তৈরি হয় তাড়াতাড়ি।
- টাকা আসে bKash, Nagad বা হাতে হাতে। নতুন কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার ঝামেলা নেই।
- তাদের অনেকের পেজ আছে, কিন্তু ভালো ছবি, ভিডিও বা লেখা বানানোর সময় নেই।
প্রথম টাকাটা ছোট হতে পারে। কিন্তু প্রথম কাজের পরে আপনার হাতে থাকে একটা আসল কাজ দেখানোর মতো, একজন মানুষ যিনি আপনার নাম অন্যকে বলতে পারেন, আর নিজের উপর আস্থা। বড় কাজের রাস্তা এখান থেকেই খোলে।
ধাপ ১: কোথায় খুঁজবেন
নিচের যেকোনো তিনটা জায়গা থেকে শুরু করুন। সব জায়গায় যাওয়ার দরকার নেই।
- নিজের এলাকা হেঁটে দেখা। বাজার, মার্কেট, বড় রাস্তার দোকানগুলো। সাইনবোর্ডে বা ক্যাশ কাউন্টারে অনেক সময় ফেসবুক পেজের নাম বা WhatsApp নম্বর লেখা থাকে। ফোনে ছবি তুলে রাখুন।
- ফেসবুক সার্চ। সার্চে লিখুন এলাকার নাম আর ব্যবসার ধরন, যেমন "মিরপুর কেক", "উত্তরা বুটিক", "খুলনা রেস্টুরেন্ট"। তারপর Pages ফিল্টার দিন।
- Google Maps। ম্যাপে আশেপাশের দোকান, সেলুন, রেস্টুরেন্ট খুঁজুন। অনেকের ফোন নম্বর আর ছবি সেখানে থাকে, আর ছবি দেখেই বোঝা যায় কার সাহায্য দরকার।
- এলাকার ফেসবুক গ্রুপ। "[এলাকার নাম] বাসিন্দা" বা "[এলাকার নাম] কেনাবেচা" ধরনের গ্রুপে অনেক ছোট ব্যবসা নিজেদের পোস্ট দেয়।
- পরিচিত মানুষ। আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী, যাদের Local Business বা অনলাইন পেজ আছে। তারা আপনাকে আগে থেকে চেনেন, তাই কথা শুরু করা সহজ। লজ্জা পাবেন না।
ধাপ ২: কাদের লিস্টে রাখবেন
সবাই ভালো ক্লায়েন্ট না। এই লক্ষণগুলো খুঁজুন:
- পেজ চালু আছে। গত এক মাসে কয়েকটা পোস্ট আছে। মানে মালিক অনলাইনে বিক্রি করতে চান।
- কাজের মান দুর্বল। ঝাপসা বা অন্ধকার ছবি, এলোমেলো ব্যাকগ্রাউন্ড, একই রকম পোস্ট বারবার, কোনো ভিডিও নেই, ক্যাপশনে শুধু "inbox"।
- মার্কেটিংয়ে টাকা খরচ করেন। পেজের Page transparency অংশে অনেক সময় দেখা যায় পেজটা এখন অ্যাড চালাচ্ছে কি না। যিনি অ্যাডে টাকা দেন, তিনি ভালো কনটেন্টের জন্যও টাকা দিতে রাজি হতে পারেন।
- আপনার কাজের সাথে মেলে। আপনি রিল বা ছবির কাজ করলে এমন ব্যবসা নিন যাদের জিনিস দেখতে সুন্দর: খাবার, কাপড়, গয়না, হাতের কাজ।
বাদ দিন: বড় ব্র্যান্ড (তাদের নিজস্ব টিম বা এজেন্সি থাকে), এক বছর ধরে বন্ধ পেজ, আর যাদের পেজ দেখে বোঝাই যায় না কী বিক্রি করে।
ধাপ ৩: লিস্টটা লিখে ফেলুন
Google Sheets (ফোনেও চলে) বা একটা খাতায় সাতটা কলাম বানান:
- নাম
- কী ব্যবসা
- কোথায় পাবেন (পেজের লিংক বা ঠিকানা)
- যোগাযোগ (Messenger, WhatsApp নম্বর, নাকি সরাসরি দোকানে)
- যে সমস্যা চোখে পড়ল (এক লাইনে)
- কী অফার করবেন
- অবস্থা (পাঠানো হয়নি, পাঠানো হয়েছে, উত্তর এসেছে, কাজ পেয়েছি, না বলেছেন)
একটা উদাহরণ সারি। নামটা বানানো:
নাম: রিমার কেক ঘর
ব্যবসা: বাসায় বানানো কেক, অনলাইনে অর্ডার
কোথায়: ফেসবুক পেজ, মোহাম্মদপুর
যোগাযোগ: Messenger, পেজে WhatsApp নম্বর দেওয়া আছে
সমস্যা: কেকের ছবি রান্নাঘরের আলোয় তোলা, পেছনে এলোমেলো জিনিস
অফার: ৩টা কেকের ছবি পরিষ্কার ব্যাকগ্রাউন্ডে সুন্দর করে দেওয়া
অবস্থা: পাঠানো হয়নি
২০টা সারি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত থামবেন না। ১০টায় থেমে গেলে মেসেজ পাঠানোর সময় হাতে মানুষ কম পড়বে, আর দুই একজনের "না" শুনেই মন ভেঙে যাবে।
ধাপ ৪: কী অফার করবেন
অফার যত ছোট আর নির্দিষ্ট, "হ্যাঁ" বলা তত সহজ। "আপনার পেজের ডিজিটাল মার্কেটিং করে দেব" শুনে কেউ বোঝে না কী পাবে, কত দিনে, কত খরচে। "আপনার ৩টা প্রোডাক্টের ছবি সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে করে দেব, কাল সন্ধ্যার মধ্যে" শুনলে সাথে সাথে বোঝে।
ভালো প্রথম অফারের চারটা গুণ:
- ছোট: এক থেকে তিন দিনে শেষ হয়।
- চোখে দেখা যায়: ক্লায়েন্ট আগের আর পরের পার্থক্যটা নিজে দেখতে পান।
- তাদের সমস্যার সাথে মেলে: লিস্টের পঞ্চম কলামে যা লিখেছেন, অফার ঠিক সেটাই সমাধান করে।
- ঝুঁকি কম: কাজ ছোট, তাই ক্লায়েন্টের সিদ্ধান্ত নিতে ভয় কম।
রাস্তা অনুযায়ী কয়েকটা ছোট অফারের আইডিয়া:
- ছবি ও অ্যাড: ৩টা প্রোডাক্টের ছবি সুন্দর করা, বা ঈদ বা পূজার অফারের ২টা পোস্ট।
- ভিডিও: একটা প্রোডাক্টের ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের রিল।
- লেখা ও পেজ: এক সপ্তাহের ৭টা পোস্টের ক্যাপশন।
- অফিসের কাজ: হাতে লেখা একটা হিসাব বা লিস্ট এক্সেল শিটে তুলে দেওয়া।
- অটোমেশন: পেজে সবচেয়ে বেশি আসা ৫টা প্রশ্নের রেডি উত্তর সেট করে দেওয়া।
ধাপ ৫: আপনার অফার লাইন
এই লাইনটাই পরে প্রতিটা মেসেজের মূল কথা হবে। ফর্মুলা:
আমি [কাদের জন্য] [কী নির্দিষ্ট জিনিস] বানাই, যাতে [তাদের কী সুবিধা]। [কত দিনে] দিয়ে দিতে পারি।
উদাহরণ, নিজের মতো বদলে নিন:
আমি অনলাইন কেকের পেজের জন্য প্রোডাক্টের ছবি সুন্দর করে দিই, যাতে পোস্ট দেখে মানুষের অর্ডার করতে ইচ্ছা হয়। দুই দিনে দিয়ে দিতে পারি।
আমি রেস্টুরেন্টের জন্য খাবারের ছোট রিল বানাই, যাতে পেজে নিয়মিত নতুন কিছু থাকে। তিন দিনে দিয়ে দিতে পারি।
আমি ছোট দোকানের হাতে লেখা হিসাব এক্সেল শিটে তুলে দিই, যাতে মাসের হিসাব এক নজরে দেখা যায়। এক দিনে দিয়ে দিতে পারি।
সুবিধার অংশে কখনো "বিক্রি দ্বিগুণ হবে" ধরনের প্রতিশ্রুতি দেবেন না। আপনি কী বানাবেন সেটা আপনার হাতে। বিক্রি কতটা বাড়বে, সেটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না।
যে ভুলগুলো সবাই করে
- লিস্ট ছাড়া মেসেজ পাঠানো। কাকে কবে কী বলেছেন ভুলে যাবেন, আর ফলোআপ আর হবে না।
- শুধু বড় আর সুন্দর পেজ বেছে নেওয়া। যাদের পেজ আগে থেকেই ভালো, তাদের আপনাকে কম দরকার।
- অফারে পাঁচটা জিনিস একসাথে বলা। একটা বলুন। বাকিগুলো কাজ পাওয়ার পরে।
- লিস্ট বানাতেই সপ্তাহ পার করা। দেড় ঘণ্টা সময় দিন, তারপর থামুন।
আজকের চেকলিস্ট
- তিনটা জায়গা ঠিক করেছি যেখান থেকে ব্যবসা খুঁজব।
- লিস্টে ২০টা নাম আছে, প্রত্যেকটার পাশে একটা চোখে পড়া সমস্যা লেখা।
- প্রত্যেকের জন্য একটা ছোট অফার ঠিক করেছি।
- আমার অফার লাইন লেখা হয়ে গেছে।
এর পরে দুইটা কাজ: কয়েকটা স্যাম্পল বানানো, আর প্রথম মেসেজ পাঠানো। কী লিখবেন, কেউ উত্তর না দিলে কী করবেন, আর "দাম কত?" প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন, সেগুলো পরের লেসনগুলোতে কপি পেস্ট করার মতো টেমপ্লেট সহ আছে।