মূল অংশে যান
AIinBangla

AI সার্ভিসের দাম কত নেবেন? নতুনদের জন্য দাম ঠিক করার নিয়ম

ফ্রিল্যান্সিং এ দাম কত নিব? কাজ ধরে দাম, নিজের সময়ের হিসাব, তিন ধাপের প্যাকেজ, মাসিক চুক্তি আর দর কষাকষির উত্তর, নতুনদের জন্য সহজ নিয়মে।

AI সার্ভিসের দাম ঠিক করা: দামের ট্যাগ, ক্যালকুলেটর, ল্যাপটপ আর রোবট, কাগজ কেটে বানানো ছবি

ফ্রিল্যান্সিং এ দাম কত নিব, এর উত্তর ঘণ্টা ধরে না, কাজ ধরে ঠিক করুন: একটা ভিডিও, দশটা পোস্ট, এক মাসের পেজ। শুরুতে বাজারের নিচের দিকে থাকুন কিন্তু ফ্রিতে না, নিজের সময় আর খরচের হিসাব রাখুন, আর তিনটা কাজ ভালোভাবে শেষ হলেই দাম বাড়ান।

এক নজরে

  • ঘণ্টা না, কাজ ধরে দাম বলুন, ক্লায়েন্ট সেটাই সহজে বোঝে।
  • দামের নিচের সীমা ঠিক হয় আপনার সময় আর টুলের খরচ থেকে।
  • বেসিক, স্ট্যান্ডার্ড আর প্রিমিয়াম, তিনটা প্যাকেজে বাছাই সহজ হয়।
  • দাম কমাতে বললে দাম না কমিয়ে কাজের পরিমাণ কমান।

ঘণ্টা না, কাজ ধরে দাম

নতুনদের জন্য দাম বলার সবচেয়ে সহজ আর নিরাপদ উপায় হলো কাজ ধরে: "একটা প্রোডাক্ট ভিডিও", "মাসে বারোটা পোস্ট"। লোকাল দোকানি ঘণ্টার হিসাব বোঝেন না, তিনি বোঝেন কী পাবেন।

ঘণ্টা ধরে দাম বললে আরেকটা সমস্যা হয়। প্রথম আলোর ২০২১ সালের এক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের ঘণ্টাপ্রতি রেট ১০ ডলারের নিচে (প্রথম আলো)। ঘণ্টা দিয়ে তুলনা শুরু হলেই আপনি সস্তার প্রতিযোগিতায় ঢুকে যান।

AI দিয়ে কাজ দ্রুত হয়, তাই ঘণ্টার হিসাব আপনার বিপক্ষে যায়। যে ভিডিও AI এর সাহায্যে কম সময়ে বানান, ক্লায়েন্টের কাছে তার মূল্য কম না। দাম ঠিক হয় কাজটা ক্লায়েন্টের কী উপকার করে তা দিয়ে।

নিজের খরচ আর সময় হিসাব

দামের একটা নিচের সীমা আছে, যার নিচে কাজ করলে আপনি আসলে লোকসান করছেন। সেই সীমা বের করতে নিজের সময় আর খরচ লিখে ফেলুন।

AI সার্ভিসের দাম ঠিক করা: ক্যালকুলেটর, রসিদ আর দামের ট্যাগ, কাগজ কেটে বানানো ছবি
০১সময় মাপুনএকটা কাজে আসলে কত সময় লাগে: ক্লায়েন্টের সাথে কথা, বানানো, রিভিশন, পাঠানো, সব মিলিয়ে।
০২খরচ লিখুনমাসের ইন্টারনেট, AI টুলের সাবস্ক্রিপশন, ফোনের ক্ষয়। মাসে কয়টা কাজ করেন, সেই হিসাবে ভাগ করুন।
০৩নিজের সময়ের মূল্য ঠিক করুনটিউশনি বা অন্য কাজে ঘণ্টায় যা পেতেন, তার চেয়ে কম না।
০৪নিচের সীমা বের করুনসময় গুণ আপনার ঘণ্টার মূল্য, সাথে খরচের ভাগ। এটাই আপনার সর্বনিম্ন দাম।
নিচের সীমা জানলে চাপে পড়ে লোকসানের কাজ নেবেন না।

একটা উদাহরণে হিসাবটা দেখুন, টাকার অঙ্ক নিজের বসিয়ে নিন। ধরুন একটা প্রোডাক্ট রিল বানাতে কথা, স্ক্রিপ্ট, বানানো আর একবার রিভিশন মিলিয়ে তিন ঘণ্টা লাগে। আপনার ঘণ্টার মূল্য যা ঠিক করেছেন, তার তিনগুণ হলো সময়ের দাম। মাসে দশটা রিল বানালে মাসের ইন্টারনেট আর টুলের খরচের দশ ভাগের এক ভাগ যোগ করুন। এই দুটোর যোগফলের নিচে রিল বানানো মানে লোকসান।

এরপর বাজার দেখুন। এলাকায় একই কাজ অন্যরা কত নেয়, ফেসবুক গ্রুপে বা পরিচিতদের জিজ্ঞেস করুন। শুরুতে বাজারের নিচের দিকে থাকুন, কিন্তু নিজের নিচের সীমার উপরে।

প্রথম কাজ ফ্রিতে না করে খুব কম দামে করুন, বা একটা ছোট নমুনা ফ্রিতে দিন, পুরো কাজ না। যে ক্লায়েন্ট একটা টাকাও দেয় না, সে সাধারণত পরেও দিতে চায় না।

তিন ধাপের প্যাকেজ বানানো

একটা দাম বললে ক্লায়েন্ট ভাবে "নেব কি নেব না"। তিনটা প্যাকেজ দিলে ভাবে "কোনটা নেব", আর এটাই আপনার পক্ষে ভালো প্রশ্ন।

প্যাকেজ ফেসবুক পেজের উদাহরণ কাদের জন্য
বেসিক মাসে কয়েকটা পোস্ট, ক্যাপশনসহ ছোট দোকান, প্রথমবার চেষ্টা
স্ট্যান্ডার্ড বেশি পোস্ট, সাথে কয়েকটা রিলস নিয়মিত বিক্রি করা পেজ
প্রিমিয়াম পোস্ট, রিলস, মেসেজের উত্তরের টেমপ্লেট, মাস শেষে ছোট রিপোর্ট ব্যস্ত ব্যবসা, যারা সময় বাঁচাতে চায়

সাধারণত বেশিরভাগ ক্লায়েন্ট মাঝেরটা বেছে নেন, তাই স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজটাই এমনভাবে সাজান যেটা আপনি সবচেয়ে বেশি বিক্রি করতে চান। প্রতিটা প্যাকেজে লিখে দিন কয়টা জিনিস, কত দিনে, কয়বার রিভিশন। অস্পষ্ট প্যাকেজ মানে পরে "এটাও করে দিন" এর অশেষ তালিকা।

কোন সার্ভিস দিয়ে প্যাকেজ বানাবেন, তার আইডিয়া পাবেন AI দিয়ে ইনকাম করার ১২টি বাস্তব উপায় লেখায়।

লোকাল আর বিদেশি ক্লায়েন্টের দাম

লোকাল ক্লায়েন্টের দাম টাকায়, বাংলাদেশের বাজার ধরে। বিদেশি ক্লায়েন্টের দাম ডলারে, তাদের বাজার ধরে, কারণ তারা অন্য দেশের বিক্রেতার সাথে তুলনা করে। বিদেশি দামে মার্কেটপ্লেসের ফি আর দেশে টাকা আনার খরচ যোগ করতে ভুলবেন না।

একই কাজ লোকাল আর বিদেশি দুই ক্লায়েন্টকে দুই রকম দামে করা অন্যায় না, বাজারই আলাদা। শুধু প্রতিটা বাজারে আপনার দাম যেন সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

মাসিক চুক্তি কেন ভালো

একবারের কাজের চেয়ে মাসিক চুক্তিতে আয় স্থির হয়, আর প্রতি মাসে নতুন ক্লায়েন্ট খোঁজার চাপ কমে। ক্লায়েন্টও খুশি থাকে, কারণ বারবার নতুন লোক বোঝাতে হয় না।

AI সার্ভিসের দাম ঠিক করা: ল্যাপটপ, খাতা আর পেন্সিল আর টাকার কয়েন, কাগজ কেটে বানানো ছবি
  • একবারের কাজ দিয়ে শুরু করুন, ভালো হলে মাসিক প্রস্তাব দিন।
  • মাসের শুরুতে অগ্রিম, অন্তত অর্ধেক, নিয়ম করে নিন।
  • কী থাকবে আর কী থাকবে না, এক পাতায় লিখে দুজনে রাখুন।
  • তিন মাস পর একসাথে বসে দেখুন কী কাজ করছে, তারপর নতুন করে ঠিক করুন।

প্রথম ক্লায়েন্ট খোঁজা থেকে চুক্তি পর্যন্ত পুরো পথ দেখুন AI দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরুর গাইডে, আর এলাকার দোকান থেকে শুরুর কৌশল আছে প্রথম ক্লায়েন্ট কোথায় পাবেন লেখায়।

চুক্তির শুরুতেই ঠিক করুন ক্লায়েন্ট কবে ছবি আর তথ্য দেবেন। তথ্য দেরিতে এলে কাজও দেরিতে যাবে, এটা আগে বলে রাখলে মাস শেষে ভুল বোঝাবুঝি হয় না।

দাম বাড়ানোর সময় কখন

তিনটা কাজ ভালোভাবে শেষ হলে, আর অন্তত একজন ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট হয়ে প্রশংসা বা আবার কাজ দিলে, দাম বাড়ানোর সময়। তখন আপনার হাতে নমুনা আর প্রমাণ দুটোই আছে।

  • নতুন ক্লায়েন্টে আগে বাড়ান: পুরনোদের আগের দামে রাখুন কিছুদিন, নতুনদের নতুন দাম বলুন।
  • পুরনোদের আগে জানান: এক মাস আগে বলুন, কারণসহ: কাজ বেড়েছে, মান বেড়েছে।
  • কাজ ফিরিয়ে দিতে হলে: সময়ের চেয়ে কাজ বেশি আসলে, সেটাই সবচেয়ে পরিষ্কার সংকেত যে দাম কম।

দর কষাকষির উত্তর

দর কষাকষি স্বাভাবিক, এতে রাগ করার কিছু নেই। নিয়ম একটাই: দাম কমাতে বললে দাম না কমিয়ে কাজের পরিমাণ কমান।

"আপনার বাজেট বুঝলাম। এই দামে আমি মাসে কম পোস্ট দিতে পারব, রিলস বাদ দিয়ে। আগে এভাবে এক মাস চালিয়ে দেখুন, ফল ভালো হলে পরে বাড়ানো যাবে।"

"অন্যরা কম নেয়, এটা হতেই পারে। আমি প্রতিটা পোস্ট আপনার পণ্য দেখে আলাদা করে বানাই, আর মাস শেষে কী কাজ করল তা দেখাই। নমুনাগুলো দেখে সিদ্ধান্ত নিন।"

আর কখনো চাপে পড়ে সঙ্গে সঙ্গে হ্যাঁ বলবেন না। "আমি হিসাব করে আজ সন্ধ্যায় জানাচ্ছি" বলা সম্পূর্ণ পেশাদার উত্তর, আর এতে লোকসানের চুক্তি এড়ানো যায়।

যে ক্লায়েন্ট শুধু সবচেয়ে কম দাম খোঁজে, তাকে ছেড়ে দেওয়াও একটা দক্ষতা। সেই সময়টা এমন ক্লায়েন্ট খুঁজতে দিন যে মান দেখে টাকা দেয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১. সর্বশেষ যাচাই: ৭ অক্টোবর ২০২৬।

সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়

ক্লায়েন্ট বলে অন্যরা কমে করে, কী বলব?
ভদ্রভাবে মেনে নিন যে কেউ কম নিতে পারে, তারপর নিজের নমুনা আর কাজের ধরন দেখান। দরকার হলে কম দামে কম কাজের প্যাকেজ দিন, কিন্তু একই কাজ কম দামে করবেন না।
প্রথম কাজ কি ফ্রিতে করব?
পুরো কাজ ফ্রিতে না করাই ভালো। একটা ছোট নমুনা ফ্রিতে দিন, যেমন একটা পোস্ট বা একটা ছবি, তারপর আসল কাজ কম দামে হলেও টাকা নিয়ে করুন। এতে ক্লায়েন্ট কাজটাকে গুরুত্ব দেয়।
বিদেশি ক্লায়েন্টে কি ডলারে দাম বলব?
হ্যাঁ, বিদেশি ক্লায়েন্টকে তাদের মুদ্রায় বা ডলারে বলুন, কারণ তারা সেভাবেই তুলনা করে। মার্কেটপ্লেসের ফি আর টাকা দেশে আনার খরচ হিসাব করে দাম ঠিক করুন, যাতে হাতে আসা টাকা আপনার নিচের সীমার উপরে থাকে।
দাম লিস্ট কি পেজে দিয়ে রাখব?
শুরুতে প্যাকেজের নাম আর কী থাকবে তা পেজে রাখুন, দাম "শুরু হয়" ধরনে দিলে ভালো। পুরো দাম মেসেজে বলুন, কারণ প্রতিটা ক্লায়েন্টের কাজ একটু আলাদা হয়, আর কথা বলার সুযোগও তৈরি হয়।
রিভিশনের সংখ্যা কি দামে ধরব?
হ্যাঁ। প্রতিটা প্যাকেজে কয়বার রিভিশন আছে লিখে দিন, সাধারণত এক বা দুইবার। এর বেশি চাইলে আলাদা খরচ বলুন, নাহলে একটা কাজ শেষই হবে না আর আপনার সময়ের হিসাব ভেঙে যাবে।

প্রথম ক্লায়েন্ট থেকে প্রথম টাকা পর্যন্ত

প্রথম ইনকাম কোর্সে ১০টা বাংলা লেসনে লোকাল ক্লায়েন্ট খোঁজা, মেসেজ, দাম ঠিক করা আর বাংলাদেশে টাকা নেওয়া ধাপে ধাপে দেখানো আছে।

প্রথম ইনকাম কোর্সটা দেখুন

১১টা বাংলা AI বই, ফ্রি

ChatGPT, Claude ও Gemini, AI টুল, কনটেন্ট, ব্যবসার প্রম্পট, ফেসলেস ইউটিউব আর আরও কয়েকটা। যে কাজে আটকে আছেন, সেই বইটা পিক করুন।

আপনার বইটা পিক করুন

বিষয়
নাসির উদ্দিন শামীম
লেখক

নাসির উদ্দিন শামীম

ঢাকা থেকে বলছি। ইন্টারনেট মার্কেটিং করি, আর নতুন কোনো এআই টুল বের হলেই সেটা ধরে দেখি কাজে লাগে কি না। যেটা সত্যিই কাজের, সেটা নিয়ে ফেসবুক আর ইউটিউবে কথা বলি। এখানে সেই জিনিসগুলোই গুছিয়ে শেখানোর চেষ্টা করি, যাতে আপনি নিজেও কাজে লাগাতে পারেন।

পড়া শেষ?

লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে

৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।

Nasir Uddin Shamim

Nasir Uddin Shamim

Typically replies within 5-10 minutes.

I will be back soon

Nasir Uddin Shamim
Hey there 👋
It’s your friend Nasir Uddin Shamim. How can I help you?