AIinBangla

AI দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন কীভাবে? প্রথম ক্লায়েন্ট পর্যন্ত

AI স্কিল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার বাস্তব ধাপ, কোন সার্ভিস বেছে নিবেন, পোর্টফোলিও কীভাবে বানাবেন, ক্লায়েন্ট কোথায়।

AI দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করবেন কীভাবে? প্রথম ক্লায়েন্ট পর্যন্ত

AI দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সবচেয়ে দ্রুত পথ মার্কেটপ্লেসে গিয়ে গিগ খোলা না। সেটা আসলে তৃতীয় ধাপ। প্রথম ধাপ একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস বেছে নেওয়া, দ্বিতীয় ধাপ তিনটা স্যাম্পল কাজ বানানো, আর প্রথম ক্লায়েন্ট প্রায় সবসময় আসে চেনাজানার ভেতর থেকে।

এক নজরে

  • “AI সার্ভিস” বলে কিছু বিক্রি হয় না, নির্দিষ্ট একটা কাজ বিক্রি হয়।
  • পোর্টফোলিও ছাড়া কেউ দাম দেয় না। তিনটা স্যাম্পল আগে বানান।
  • প্রথম ক্লায়েন্ট মার্কেটপ্লেস থেকে না, পরিচিতির ভেতর থেকে আসে।
  • দেশি ক্লায়েন্ট দিয়ে শুরু করা সহজ; বিদেশি ক্লায়েন্ট পরে।

ধাপ ১, একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস বাছুন

“আমি AI দিয়ে কাজ করি” শুনে কেউ টাকা দেয় না। “আমি রেস্টুরেন্টের জন্য প্রোডাক্ট ভিডিও বানাই” শুনে দেয়। যত সংকীর্ণ, তত সহজ।

শুরু করার জন্য ভালো সার্ভিস: প্রোডাক্ট ভিডিও, ফেসবুক অ্যাড ক্রিয়েটিভ, ইউটিউব থাম্বনেইল, পেজের মাসিক কনটেন্ট, SEO আর্টিকেল, বা মেসেজের অটো-রিপ্লাই সেটআপ।

ধাপ ২, তিনটা স্যাম্পল বানান

ক্লায়েন্ট ছাড়াই বানানো যায়। চেনা তিনটা ব্যবসা বেছে নিন, তাদের জন্য কাজটা করে ফেলুন, না বলেই। এখন আপনার হাতে দেখানোর মতো জিনিস আছে। এই স্যাম্পলগুলোই পরে আপনার সবচেয়ে বড় বিক্রির হাতিয়ার।

স্যাম্পল বানানোর সময় বাস্তব ব্যবসা বেছে নিন, কাল্পনিক না। “এই দোকানের জন্য বানিয়েছি” বলতে পারলে বিশ্বাসযোগ্যতা অনেক বেশি।

ধাপ ৩, প্রথম ক্লায়েন্ট

০১চেনা লিস্ট বানানযাদের ব্যবসা বা পেজ আছে এমন ২০ জনের নাম লিখুন। আত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী দোকান, সবাই।
০২একজনকে বিনা পয়সায় দিনটাকা চাইবেন না। কাজটা করে পাঠিয়ে দিন। পছন্দ হলে দ্বিতীয়টার দাম নিজে থেকেই আসে।
০৩ফল দেখিয়ে দাম বাড়ান“এই ভিডিওতে এত ভিউ এসেছে” বলতে পারলে দর কষাকষি লাগে না।
০৪তারপর মার্কেটপ্লেসতিন-চারটা কাজ আর রিভিউ হাতে নিয়ে Fiverr বা Upwork-এ যান। খালি হাতে গেলে হারিয়ে যাবেন।
ক্রম উল্টে ফেললেই আটকে যায়, বেশিরভাগ মানুষ ধাপ ৪ দিয়ে শুরু করে।

দাম কত রাখবেন

শুরুতে কম, কিন্তু বিনা পয়সায় না (প্রথম স্যাম্পলটা ছাড়া)। প্রথম তিনটা কাজ মার্কেট প্রাইসের অর্ধেকে করুন, তারপর প্রতিটা নতুন ক্লায়েন্টে একটু বাড়ান। কাজ ফুরিয়ে গেলে বুঝবেন দাম ঠিক আছে; কাজ সামলাতে না পারলে বুঝবেন দাম কম।

গিগ বা প্রস্তাব কীভাবে লিখবেন

নতুনদের প্রস্তাব প্রায় সবসময় একইরকম হয়: “আমি কঠোর পরিশ্রমী, আমাকে একটা সুযোগ দিন।” এটা কাজ করে না, কারণ ক্লায়েন্ট আপনার চরিত্র কিনছে না, একটা সমস্যার সমাধান কিনছে।

যা লেখা হয় যা লেখা উচিত
আমি ভিডিও এডিটিং জানি আপনার পেজের শেষ ৫টা পোস্টে ভিডিও নেই। এই ধরনের ব্যবসায় ভিডিও পোস্টে সাধারণত বেশি সাড়া আসে। একটা স্যাম্পল বানিয়ে দিয়েছি, দেখুন।
আমি নতুন, কিন্তু শিখছি এই কাজটার তিনটা স্যাম্পল আমার আছে, লিংক নিচে। প্রথমটা আপনার জন্য বিনা পয়সায় করে দিব।
দাম আলোচনা সাপেক্ষ একটা ভিডিও ৩,০০০ টাকা, পাঁচটা নিলে ১২,০০০। ডেলিভারি ৩ দিনে।

প্রথম কাজটা যেভাবে ঠিকভাবে শেষ করবেন

প্রথম ক্লায়েন্ট পাওয়ার চেয়ে ধরে রাখা কঠিন। যা করলে দ্বিতীয় কাজটাও আসে:

  • শুরুতেই লিখে নিন কী দিবেন। কয়টা ভিডিও, কত দিনে, কয়বার সংশোধন। মুখের কথায় কাজ শুরু করলে পরে ঝামেলা হয়।
  • সময়ের আগে দিন। তিন দিনের কথা বলে দুই দিনে দিলে ক্লায়েন্ট মনে রাখে।
  • দুটো বিকল্প দিন। একটা দিলে সে হ্যাঁ বা না বলে; দুটো দিলে সে বেছে নেয়। মনস্তাত্ত্বিকভাবে এটা অনেক ভালো কাজ করে।
  • শেষে ফল জিজ্ঞেস করুন। এক সপ্তাহ পর জানতে চান কেমন সাড়া পেলেন। ওই উত্তরটাই আপনার পরের ক্লায়েন্টের কাছে প্রমাণ।

অগ্রিম আর নিরাপত্তা

দেশি ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে অন্তত ৫০ শতাংশ অগ্রিম নিন। যারা অগ্রিম দিতে রাজি না, তাদের সাথে কাজ না করাই ভালো। বিদেশি ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে মার্কেটপ্লেসের বাইরে লেনদেন করবেন না, ওটাই একমাত্র সুরক্ষা।

যে কাজগুলো এড়িয়ে চলবেন: “আগে কাজ দেখান, পছন্দ হলে টাকা দিব” যেখানে কাজটা পুরো প্রজেক্ট, অথবা “এখন ফ্রি করে দিন, পরে অনেক কাজ দিব”। ছোট স্যাম্পল ফ্রিতে দেওয়া ঠিক আছে, পুরো কাজ না।

স্কিল থেকে ব্যবসায় যাওয়া

প্রথম কয়েক মাস আপনি নিজে কাজ করবেন। তারপর দুটো পথ: হয় দাম বাড়িয়ে কম কাজ নেওয়া, নয়তো লোক নিয়ে বেশি কাজ নেওয়া। বেশিরভাগের জন্য প্রথমটা ভালো, কারণ টিম চালানো আলাদা স্কিল।

মাসিক কন্ট্রাক্ট সবচেয়ে ভালো কাঠামো। একবারের কাজে প্রতি মাসে নতুন ক্লায়েন্ট খুঁজতে হয়; মাসিক কন্ট্রাক্টে ইনকাম নিশ্চিত থাকে আর মনোযোগ কাজের দিকে থাকে।

সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়

ইংরেজি না জানলে ফ্রিল্যান্সিং হবে?
দেশি ক্লায়েন্টের সাথে হবে, আর দেশে কাজের অভাব নেই। বিদেশি মার্কেটপ্লেসে যেতে চাইলে কাজ চালানোর মতো ইংরেজি লাগবে।
কত দিনে প্রথম ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়?
স্যাম্পল তৈরি থাকলে সাধারণত ২-৬ সপ্তাহ। স্যাম্পল ছাড়া অনির্দিষ্টকাল।
পেমেন্ট কীভাবে নিব?
দেশি ক্লায়েন্ট হলে বিকাশ বা ব্যাংক। বিদেশি হলে মার্কেটপ্লেসের নিজস্ব ব্যবস্থা বা ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অনুমোদিত মাধ্যম।
পোর্টফোলিও কোথায় রাখব?
শুরুতে একটা Google Drive ফোল্ডার বা ফেসবুক অ্যালবামই যথেষ্ট। ওয়েবসাইট পরে, যখন কাজ আসতে শুরু করবে।
ক্লায়েন্ট টাকা না দিলে?
অগ্রিম নেওয়ার অভ্যাসটাই মূল সুরক্ষা। কাজের সব কথাবার্তা লিখিতভাবে রাখুন, আর ফাইনাল ফাইল টাকা পাওয়ার পর দিন।

কোথা থেকে শুরু করবেন

কোন কাজে কত টাকা, কোন সেশন কী কাজে লাগে আর প্রথম সাত দিনে কী করবেন, পুরো গাইড এক জায়গায় সাজানো আছে।

গাইডটা পড়ুন

বিষয়
নাসির উদ্দিন শামীম
লেখক

নাসির উদ্দিন শামীম

I am an Internet Marketer and AI Enthusiast from Dhaka, Bangladesh! I love exploring new AI Tools and talk about them in FB and YouTube. May be, I can teach you how to explore and use new AI innovations as well...keep in touch.

পড়া শেষ?

লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে

৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।

Nasir Uddin Shamim

Nasir Uddin Shamim

Typically replies within 5-10 minutes.

I will be back soon

Nasir Uddin Shamim
Hey there 👋
It’s your friend Nasir Uddin Shamim. How can I help you?