মূল অংশে যান
AIinBangla

ইনস্টাগ্রাম প্রফিট প্লেবুক: থিম পেজ থেকে আয়ের ৬ ধাপ (ডাউনলোড লিংক)

ইনস্টাগ্রাম থিম পেজ খুলে আয়ের ৬ ধাপ: নিশ, প্রোফাইল, রিলস আর ক্যারোসেল, এনগেজমেন্ট, অ্যাফিলিয়েট ও স্পনসর, আর Insights আর নিরাপত্তা। সাথে ফ্রি প্লেবুক।

ইনস্টাগ্রাম প্লেবুক: মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, হৃদয় আর খোলা বই, কাগজ কেটে বানানো ছবি

ইনস্টাগ্রাম থিম পেজ মানে মুখ না দেখিয়ে একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত রিলস আর ক্যারোসেল পোস্ট করা পেজ, যেমন রান্না, ভ্রমণ, উক্তি বা AI টিপস। আয় আসে মূলত অ্যাফিলিয়েট লিংক, নিজের ডিজিটাল প্রোডাক্ট আর অন্য ব্র্যান্ডের পেইড প্রচার থেকে, আর সেই পর্যন্ত যেতে লাগে ছয়টা ধাপ: নিশ, প্রোফাইল, কনটেন্ট, এনগেজমেন্ট, আয় আর নিয়মিত হিসাব ও নিরাপত্তা।

এক নজরে

  • এমন একটা বিষয় বাছুন যেটা নিয়ে মাসের পর মাস পোস্ট করতে পারবেন।
  • রিলস নতুন দর্শক আনে, ক্যারোসেল সেভ আর শেয়ার বাড়ায়।
  • অন্যের ভিডিও রিপোস্ট করে পেজ বড় করা কপিরাইটের ঝুঁকি।
  • Two factor authentication চালু না রাখলে পেজ হারানোর ঝুঁকি থাকে।

ধাপ ১: নিজের পছন্দের বিষয় পিক করুন

থিম পেজের প্রথম সিদ্ধান্ত হলো বিষয় বা নিশ। এমন একটা বিষয় নিন, যেটা নিয়ে আপনি বন্ধুদের সাথে সারাদিন গল্প করতে পারেন। কারণ পেজ বড় হতে মাস লাগে, আর আগ্রহ না থাকলে দুই সপ্তাহে থেমে যাবেন।

কয়েকটা উদাহরণ: সহজ রান্না, বাংলাদেশের ভ্রমণের জায়গা, পড়াশোনার টিপস, ফোনে ছবি তোলা, AI টুলের ছোট টিপস, বা ঘর সাজানো। বিষয় যত নির্দিষ্ট, দর্শক তত সহজে বোঝে পেজটা কেন ফলো করবে।

প্রম্পট: "আমি ইনস্টাগ্রামে [বিষয়] নিয়ে মুখ না দেখিয়ে একটা পেজ খুলতে চাই, দর্শক বাংলাদেশের। এই বিষয়ে ৩০টা রিলস আর ১০টা ক্যারোসেলের আইডিয়া দাও, প্রতিটার এক লাইনের হুক সহ।"

৩০টা আইডিয়া পেয়ে যদি মনে হয় এর অর্ধেকও বানাতে ইচ্ছে করছে না, বিষয় বদলান।

ধাপ ২: প্রোফাইল সাজান

প্রোফাইল হলো পেজের দরজা। নতুন কেউ এসে তিন সেকেন্ডে বুঝতে না পারলে ফলো না করেই চলে যান।

ইনস্টাগ্রাম প্লেবুক: ক্যামেরা, মোবাইল ফোন আর হৃদয়, কাগজ কেটে বানানো ছবি
  • ইউজারনেম: সহজ, মনে রাখার মতো, বিষয়ের সাথে মেলে। সংখ্যা আর আন্ডারস্কোর যত কম, তত ভালো।
  • বায়ো: এক লাইনে পেজটা কী দেয়, যেমন "প্রতিদিন ৩০ সেকেন্ডে একটা সহজ রেসিপি"।
  • প্রোফাইল ছবি: ছোট হয়েও যেন চেনা যায়, একটা লোগো বা পরিষ্কার একটা আইকন।
  • প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট: সেটিংস থেকে Creator বা Business অ্যাকাউন্টে বদলান, তাহলে Insights দেখা যায়।

ধাপ ৩: কোন কনটেন্ট দেবেন

দর্শক ফিরে আসেন কারণ আপনি নিয়মিত নতুন কিছু দেখান। ইনস্টাগ্রামে দুই ধরনের পোস্ট সবচেয়ে বেশি কাজে আসে।

রিলস: ছোট ভার্টিকাল ভিডিও, নতুন মানুষের কাছে পৌঁছানোর মূল পথ। প্রথম দুই সেকেন্ডে কেন দেখবে, সেটা বলে দিন। ক্যারোসেল: কয়েকটা ছবি বা স্লাইড একসাথে, ধাপে ধাপে টিপস বা লিস্টের জন্য ভালো, মানুষ সেভ করে রাখে।

সব পোস্টে একই রং, ফন্ট আর স্টাইল রাখুন, যাতে স্ক্রল করতে করতেই মানুষ চিনে ফেলে এটা আপনার পেজ। Canva বা CapCut এ একটা টেমপ্লেট বানিয়ে রাখলে প্রতিবার সময় বাঁচে।

অনেক থিম পেজ অন্যের রিলস বা ভিডিও ডাউনলোড করে আবার পোস্ট করে বড় হয়। এতে কপিরাইট অভিযোগে পোস্ট সরে যেতে পারে, আর বারবার হলে অ্যাকাউন্টও বন্ধ হতে পারে। নিয়মগুলো বিস্তারিত আছে অন্যের রিলস দেওয়ার কপিরাইট নিয়মের লেখায়, Meta এর দুই অ্যাপেই মূল কথা এক।

ধাপ ৪: নতুন বন্ধু বানান, এনগেজমেন্ট

শুধু নিজের পেজে পোস্ট দিয়ে বসে থাকলে বৃদ্ধি ধীর হয়। একই বিষয়ের অন্য পেজে গিয়ে কাজের কমেন্ট করুন, যেটা পড়ে মানুষ আপনার প্রোফাইলে আসতে চায়।

ইনস্টাগ্রাম প্লেবুক: খোলা বই, ওপরে ওঠা বার চার্ট আর টাকার কয়েন, কাগজ কেটে বানানো ছবি
  • নিজের পোস্টে আসা কমেন্টের উত্তর দিন, বিশেষ করে প্রথম এক ঘণ্টায়।
  • যে প্রশ্ন বারবার আসে, সেটা নিয়ে পরের রিলস বানান।
  • রিলসে ট্রেন্ডিং অডিও ব্যবহার করলে বেশি মানুষের কাছে যেতে পারে, তবে বিষয়ের সাথে মিলিয়ে।
  • অন্য ছোট পেজের সাথে মিলে collab পোস্ট করুন, দুই পেজের দর্শকই দেখেন।

ভাইরাল হওয়ার পেছনে ভাগ্যের চেয়ে কাঠামো বেশি কাজ করে: হুক, গল্প, আর শেষে একটা কারণ শেয়ার করার। সেই কাঠামো ধরে বোঝানো আছে ভাইরাল কনটেন্টের ফর্মুলায়।

AI দিয়ে সপ্তাহের কনটেন্ট এক বসায়

প্রতিদিন নতুন করে ভাবতে বসলে পোস্ট বন্ধ হয়ে যায়। তার চেয়ে সপ্তাহে একদিন এক ঘণ্টা বসে পুরো সপ্তাহের কনটেন্ট সাজিয়ে ফেলুন।

০১আইডিয়া পিক করুনধাপ ১ এর ৩০টা আইডিয়া থেকে এই সপ্তাহের ৪টা রিলস আর ১টা ক্যারোসেল।
০২স্ক্রিপ্ট লেখানChatGPT বা Claude কে বলুন প্রতিটা রিলসের ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের স্ক্রিপ্ট আর প্রথম লাইনের হুক লিখতে।
০৩ক্যাপশন আর হ্যাশট্যাগপ্রতিটা পোস্টের ছোট ক্যাপশন, একটা প্রশ্ন আর বিষয়ের সাথে মেলে এমন কয়েকটা হ্যাশট্যাগ।
০৪শিডিউল করুনMeta Business Suite থেকে পোস্টগুলো সপ্তাহের নির্দিষ্ট সময়ে শিডিউল করে রাখুন।
এক বসায় সপ্তাহ, তারপর বাকি সময় কমেন্টের উত্তর।

AI এর স্ক্রিপ্ট হুবহু না নিয়ে নিজের ভাষায় একটু বদলে নিন। একই টুলের একই রকম লেখা হাজার পেজে যায়, আপনার নিজের অভিজ্ঞতা বা মজার একটা লাইনই পেজটাকে আলাদা করে।

ধাপ ৫: আয় কোথা থেকে আসে

যখন নিয়মিত অনেক মানুষ আপনার পোস্ট দেখেন, তখন আয়ের কয়েকটা পথ খোলে। কোনোটাই রাতারাতি না, আর কেউ নির্দিষ্ট অঙ্ক নিশ্চিত করতে পারে না।

পথ কী কখন থেকে
অ্যাফিলিয়েট অন্যের প্রোডাক্টের লিংক দিয়ে বিক্রিতে কমিশন অল্প ফলোয়ারেও শুরু করা যায়
নিজের ডিজিটাল প্রোডাক্ট রেসিপি বই, প্রিসেট, টেমপ্লেট দর্শক আপনার ওপর আস্থা রাখলে
পেইড প্রচার অন্য ব্র্যান্ড বা পেজের পোস্ট বা শাউটআউট নির্দিষ্ট দর্শক আর নিয়মিত ভিউ থাকলে
সার্ভিস অন্যের পেজ চালানো বা কনটেন্ট বানানো নিজের পেজই তখন পোর্টফোলিও

পেইড প্রচার করলে সেটা দর্শককে জানাতে হয়, ইনস্টাগ্রামে এর জন্য "Paid partnership" লেবেল আছে। কোন পথে বাংলাদেশ থেকে কীভাবে টাকা আসে, উদাহরণ সহ আছে মনিটাইজেশন ছাড়া পেজ থেকে আয়ের লেখায়।

ধাপ ৬: হিসাব রাখুন আর অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখুন

সপ্তাহে একবার Insights খুলে দেখুন কোন পোস্ট সবচেয়ে বেশি সেভ, শেয়ার আর ফলো এনেছে। যা কাজ করেছে, সেই ধরনের পোস্ট বেশি বানান, যা কাজ করেনি সেটা কমান।

মাসে একবার প্রোফাইল দেখে নিন: বায়ো এখনো ঠিক আছে কিনা, লিংক কাজ করছে কিনা, পুরনো পোস্টে ভুল তথ্য আছে কিনা।

আর সবচেয়ে জরুরি: Two factor authentication চালু করুন, অ্যাকাউন্টস সেন্টারের পাসওয়ার্ড ও নিরাপত্তা অংশ থেকে। পেজ বড় হলে হ্যাক করার চেষ্টাও বাড়ে, আর "কপিরাইট নোটিশ" বা "ভেরিফিকেশন" নামে আসা মেসেজের লিংকে লগ ইন করবেন না। একবার পেজ হারালে মাসের পর মাসের পরিশ্রম চলে যায়।

পুরো ছয়টা ধাপ বাচ্চাদেরও বোঝার মতো সহজ ভাষায় আর উদাহরণে সাজানো আছে ইনস্টাগ্রাম প্রফিট প্লেবুকে, লিংক খুলে পড়তে বা সেভ করে রাখতে পারেন।

সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়

ইনস্টাগ্রাম কি থিম পেজকে সরাসরি টাকা দেয়?
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আয় সরাসরি ইনস্টাগ্রাম থেকে আসে না। থিম পেজের আয় মূলত অ্যাফিলিয়েট, নিজের প্রোডাক্ট, পেইড প্রচার আর সার্ভিস থেকে আসে। ইনস্টাগ্রামের নিজের আয়ের ফিচার দেশ আর অ্যাকাউন্ট ভেদে আলাদা।
মুখ না দেখিয়ে কি ইনস্টাগ্রাম পেজ চলে?
চলে। রান্না, ভ্রমণ, উক্তি, টিপস বা টিউটোরিয়ালের মতো বিষয়ে হাত, স্ক্রিন বা দৃশ্য দেখিয়েই রিলস বানানো যায়। নিজের কণ্ঠ বা লেখা দিয়ে ব্যক্তিত্ব যোগ করুন।
কত দিন পর পর পোস্ট করব?
যতটা নিয়মিত টানা চালাতে পারবেন। সপ্তাহে তিন চারটা ভালো পোস্ট, প্রতিদিন একটা দুর্বল পোস্টের চেয়ে ভালো। একটা সময়সূচি ঠিক করে মেনে চলুন।
ফলোয়ার কেনা কি ঠিক?
না। কেনা ফলোয়ার আপনার পোস্ট দেখে না, ফলে আসল দর্শকের কাছে পৌঁছানো কমে যায়, আর ব্র্যান্ডও এমন পেজের সাথে কাজ করতে চায় না। ইনস্টাগ্রামের নিয়মেও এটা নিষেধ।

কনটেন্ট বানানো শিখতে চাইলে

Viral AI Content Framework কোর্সে প্রতিদিন নতুন কনটেন্ট বানানোর পুরো মেথড দেখানো আছে, প্রতিটা ভিডিওর সাথে কুইজ সহ।

Viral AI Content Framework দেখুন

এই লেখার পরের ধাপ, ফ্রি বাংলা বই

AI কনটেন্ট ক্রিয়েটর মাস্টারক্লাস

আইডিয়া থেকে পাবলিশ পর্যন্ত পুরো সিস্টেম, সাথে ৬০টা হুক আর ৩০ দিনের কনটেন্ট ক্যালেন্ডার।

বইটা ফ্রি নিন

অন্য কাজের বই খুঁজছেন? পুরো লাইব্রেরি, ১১টা বই

বিষয়
নাসির উদ্দিন শামীম
লেখক

নাসির উদ্দিন শামীম

ঢাকা থেকে বলছি। ইন্টারনেট মার্কেটিং করি, আর নতুন কোনো এআই টুল বের হলেই সেটা ধরে দেখি কাজে লাগে কি না। যেটা সত্যিই কাজের, সেটা নিয়ে ফেসবুক আর ইউটিউবে কথা বলি। এখানে সেই জিনিসগুলোই গুছিয়ে শেখানোর চেষ্টা করি, যাতে আপনি নিজেও কাজে লাগাতে পারেন।

পড়া শেষ?

লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে

৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।

Nasir Uddin Shamim

Nasir Uddin Shamim

Typically replies within 5-10 minutes.

I will be back soon

Nasir Uddin Shamim
Hey there 👋
It’s your friend Nasir Uddin Shamim. How can I help you?