AIinBangla

ভাইরাল কনটেন্ট বানানোর ফর্মুলা, অনুমান বাদ, কাঠামো ধরুন

ভাইরাল পোস্ট আর রিলসের পেছনের কাঠামো, হুক, ধরে রাখা আর শেয়ার করার কারণ। বাংলাদেশি প্রেক্ষাপটে।

ভাইরাল কনটেন্ট বানানোর ফর্মুলা, অনুমান বাদ, কাঠামো ধরুন

ভাইরাল হওয়া ভাগ্যের ব্যাপার না, কাঠামোর ব্যাপার। প্রায় প্রতিটা ভাইরাল কনটেন্টে তিনটা জিনিস থাকে: প্রথম তিন সেকেন্ডে থামিয়ে দেওয়ার মতো একটা হুক, শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার মতো একটা কারণ, আর শেয়ার করার মতো একটা অজুহাত। তিনটার একটা বাদ পড়লে কনটেন্ট ছড়ায় না।

এক নজরে

  • প্রথম ৩ সেকেন্ড না জিতলে বাকিটার কোনো মানে নেই।
  • মানুষ শেয়ার করে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য, আপনাকে সাহায্য করার জন্য না।
  • একটা কনটেন্ট একটাই বিষয় নিয়ে হবে।
  • যেটা একবার চলেছে, সেই কাঠামো আবার ব্যবহার করুন, নতুন বিষয়ে।

হুক, প্রথম তিন সেকেন্ড

স্ক্রল করতে করতে মানুষ তিন সেকেন্ডে সিদ্ধান্ত নেয়। যে হুকগুলো কাজ করে: একটা প্রচলিত ধারণা ভেঙে দেওয়া (“বেশি পরিশ্রম করলে বেশি ইনকাম হয় না”), একটা সংখ্যা দিয়ে শুরু (“৩ মাসে ৪০ হাজার, যেভাবে”), একটা ভুল ধরিয়ে দেওয়া (“এই ভুলটা প্রায় সবাই করে”), বা সরাসরি প্রশ্ন যেটার উত্তর পাঠক জানতে চায়।

একটা কাজের অভ্যাস: কনটেন্ট বানানোর আগে ১০টা হুক লিখে ফেলুন, তারপর সবচেয়ে ভালোটা বেছে নিন। AI দিয়ে ১০টা লিখিয়ে নিলে কয়েক মিনিটের কাজ।

ধরে রাখা

হুক ক্লিক আনে, ধরে রাখা ছড়ায়। প্ল্যাটফর্মগুলো দেখে মানুষ কতক্ষণ থাকল। তাই মাঝপথে ঝুলিয়ে রাখুন, “তিন নম্বরটাই সবচেয়ে কাজের”, বা “শেষে একটা কথা আছে যেটা সবচেয়ে জরুরি”। আর প্রতি ৩-৫ সেকেন্ডে দৃশ্য বা কথার ধরন বদলান।

শেয়ার করার কারণ

এই অংশটা বেশিরভাগ মানুষ ভাবে না। মানুষ শেয়ার করে যখন কনটেন্টটা তার সম্পর্কে কিছু বলে, “আমি এমন মানুষ যে এটা বোঝে”। তাই যে কনটেন্ট একটা মত প্রকাশ করে, একটা পরিচয় দেয়, বা কারো হয়ে কথা বলে, সেটা বেশি শেয়ার হয়। নিরপেক্ষ তথ্য কেউ শেয়ার করে না।

FRIP, চারটা স্তম্ভ

FFamiliar, চেনাপাঠক যেটা নিয়ে ইতিমধ্যে ভাবছে সেটা নিয়ে বলুন। নতুন বিষয় শেখানোর চেয়ে চেনা বিষয়ে নতুন কথা বলা সহজে ছড়ায়।
RRelatable, নিজের মতো“আমারও তো এমন হয়”, এই অনুভূতিটাই শেয়ার আনে।
IInformative, কাজেরদেখে কিছু একটা পাওয়া গেল, এটুকু থাকতে হবে। শুধু বিনোদন দ্রুত ফুরায়।
PProvocative, নাড়া দেওয়াএকটা মত, একটা অবস্থান। সবাই একমত হলে কেউ কমেন্ট করে না।
চারটার অন্তত তিনটা থাকলে কনটেন্ট ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

প্রতিদিন কনটেন্ট বানাবেন কীভাবে

আইডিয়া ফুরিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বড় বাধা। সমাধান: যেটা একবার চলেছে, সেই কাঠামোটা রেখে বিষয় বদলান। “৫টা ভুল” চললে পরের সপ্তাহে অন্য বিষয়ে “৫টা ভুল”। কাঠামো পুনর্ব্যবহার করা কপি করা না, এটাই পেশাদার মেথড।

হুকের দশটা ছাঁচ যেগুলো বারবার কাজ করে

ছাঁচ উদাহরণ
প্রচলিত ধারণা ভাঙা বেশি পরিশ্রম করলে বেশি ইনকাম হয় না। যা হয় সেটা হলো…
সংখ্যা দিয়ে শুরু ৩ মাসে ৪০ হাজার। কীভাবে, ধাপে ধাপে বলছি।
ভুল ধরিয়ে দেওয়া এই একটা ভুলে বেশিরভাগ পেজ মরে যায়।
গোপন কিছু যেটা কেউ বলে না, কারণ বললে তাদের কাজ কমে যায়।
আগে ও পরে এই পোস্টে ৩ লাইক ছিল। একই জিনিস এভাবে লিখে ৪ হাজার।
সরাসরি প্রশ্ন আপনার পেজে পোস্ট যায়, কিন্তু অর্ডার আসে না কেন?
লিস্টের প্রতিশ্রুতি ৭টা টুল, সবগুলোই ফ্রি, শেষেরটা সবচেয়ে কাজের।
ব্যক্তিগত স্বীকারোক্তি প্রথম ছয় মাসে আমার ইনকাম ছিল শূন্য। যা শিখেছি…
জরুরি সতর্কতা এই জিনিসটা করলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
সহজ করে দেওয়া জিনিসটা জটিল মনে হয়। আসলে তিনটা ধাপ, ব্যস।

কনটেন্ট ফুরিয়ে যাওয়ার সমাধান

আইডিয়ার অভাব আসলে আইডিয়ার অভাব না, ব্যবস্থার অভাব। তিনটা উৎস থেকে অফুরন্ত বিষয় আসে:

প্রশ্ন। মানুষ আপনাকে যা জিজ্ঞেস করে। প্রতিটা প্রশ্ন একটা পোস্ট। ইনবক্স আর কমেন্ট আপনার সবচেয়ে বড় আইডিয়ার ভাণ্ডার।

যা চলেছে তার কাঠামো। একটা পোস্ট চললে সেই কাঠামো রেখে বিষয় বদলান। “৫টা ভুল” চললে অন্য বিষয়ে “৫টা ভুল”।

যা আপনাকে বিরক্ত করে। আপনার ক্ষেত্রে যে ভুল ধারণাগুলো ছড়ানো আছে, সেগুলো ভাঙা সবচেয়ে বেশি সাড়া পায়।

পোস্ট করার সময় ও ছন্দ

সময় নিয়ে বেশি ভাববেন না। যেটা বেশি জরুরি সেটা হলো নিয়মিত হওয়া। প্ল্যাটফর্ম দেখে আপনি নিয়মিত কি না, আর নিয়মিত হলে ধীরে ধীরে বেশি মানুষকে দেখায়।

প্রথম এক ঘণ্টায় যে সাড়া আসে সেটাই ঠিক করে দেয় পোস্টটা কতদূর যাবে। তাই পোস্ট দিয়ে হারিয়ে যাবেন না, প্রথম ঘণ্টায় কমেন্টের উত্তর দিন।

ভাইরাল হওয়ার পর কী করবেন

এখানেই বেশিরভাগ মানুষ সুযোগ নষ্ট করে। একটা পোস্ট ছড়ালে হাজারো নতুন মানুষ আপনার পেজে আসে, আর তারা দেখে ফাঁকা পেজ বা অসম্পর্কিত পোস্ট, তারপর চলে যায়।

আগে থেকে তৈরি রাখুন: পেজের পরিচিতিতে পরিষ্কার করে লেখা আপনি কী দেন, সাম্প্রতিক কয়েকটা ভালো পোস্ট, আর পরের ধাপে যাওয়ার একটা উপায়, যেমন একটা ফ্রি জিনিস বা একটা গ্রুপ। ভাইরাল হওয়া সুযোগ, নিজে থেকে ফল না।

সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়

ভাইরাল হলেই কি ইনকাম হয়?
না। ভাইরাল হলে পরিচিতি আসে, ইনকাম আসে তখনই যখন বিক্রি করার মতো কিছু থাকে। তাই কনটেন্টের পাশাপাশি একটা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস দরকার।
দিনে কয়টা পোস্ট দেওয়া উচিত?
ধারাবাহিকতা সংখ্যার চেয়ে জরুরি। দিনে একটা, কিন্তু প্রতিদিন, এটাই সপ্তাহে সাতটা একদিনে দেওয়ার চেয়ে ভালো কাজ করে।
বাংলা না ইংরেজি?
পাঠক কে তার উপর নির্ভর করে। দেশের ভেতরের পাঠকের জন্য বাংলা অনেক ভালো কাজ করে। আন্তর্জাতিক পাঠক চাইলে ইংরেজি, তবে দুটো আলাদা পেজে রাখাই ভালো।
হ্যাশট্যাগ কি কাজে লাগে?
আগের চেয়ে অনেক কম। কনটেন্টের মান আর প্রথম ঘণ্টার সাড়া এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দুই তিনটার বেশি দেওয়ার দরকার নেই।
একই পোস্ট কি সব প্ল্যাটফর্মে দেওয়া যায়?
বিষয় এক রাখা যায়, কিন্তু আকার আর ভাষা বদলাতে হয়। হুবহু কপি করলে কোনোটাতেই ভালো চলে না।

কনটেন্ট বানানো শিখতে চাইলে

Viral AI Content Framework কোর্সে প্রতিদিন নতুন কনটেন্ট বানানোর পুরো মেথড দেখানো আছে, প্রতিটা ভিডিওর সাথে কুইজ সহ।

কোর্সটা দেখুন

বিষয়
নাসির উদ্দিন শামীম
লেখক

নাসির উদ্দিন শামীম

I am an Internet Marketer and AI Enthusiast from Dhaka, Bangladesh! I love exploring new AI Tools and talk about them in FB and YouTube. May be, I can teach you how to explore and use new AI innovations as well...keep in touch.

পড়া শেষ?

লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে

৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।

Nasir Uddin Shamim

Nasir Uddin Shamim

Typically replies within 5-10 minutes.

I will be back soon

Nasir Uddin Shamim
Hey there 👋
It’s your friend Nasir Uddin Shamim. How can I help you?