AI সার্চে দেখা যাওয়ার উপায়, SEO থেকে AEO
ChatGPT বা Gemini-র উত্তরে আপনার সাইট দেখা যাবে কীভাবে, AI সার্চের জন্য কনটেন্ট সাজানোর নিয়ম।
মানুষ এখন অনেক প্রশ্ন গুগলে না লিখে সরাসরি AI-কে জিজ্ঞেস করে, আর AI দশটা লিংক না দিয়ে একটা উত্তর দেয়। সেই উত্তরে জায়গা পেতে হলে কনটেন্টের গঠন বদলাতে হয়, প্রশ্নের উত্তর সরাসরি, শুরুতেই, আর এমনভাবে যাতে একটা অনুচ্ছেদ আলাদা করে তুলে নেওয়া যায়।
এক নজরে
- প্রথম অনুচ্ছেদেই সরাসরি উত্তর দিন, এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।
- FAQ, লিস্ট আর টেবিল, তিনটাই তুলে নেওয়া সহজ।
- যে তথ্য শুধু আপনার কাছে আছে, সেটাই উদ্ধৃত হওয়ার কারণ।
- পুরোনো SEO বাদ যায়নি; এটা তার উপরে যোগ হয়েছে।
পার্থক্যটা কোথায়
| পুরোনো SEO | AI সার্চ (AEO) | |
|---|---|---|
| লক্ষ্য | ক্লিক পাওয়া | উত্তরে উদ্ধৃত হওয়া |
| কাঠামো | কীওয়ার্ড ও শিরোনাম | সরাসরি উত্তর ও FAQ |
| দৈর্ঘ্য | যত লম্বা তত ভালো ভাবা হতো | যতটুকু দরকার, স্পষ্ট ভাগে |
| জেতে যে | বেশি ব্যাকলিংক | স্পষ্ট, নির্দিষ্ট, মৌলিক তথ্য |
যা করলে উদ্ধৃত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে
বাংলা কনটেন্টে বাড়তি সুযোগ
ইংরেজিতে প্রতিটা প্রশ্নের হাজারো উত্তর আছে। বাংলায় অনেক প্রশ্নের ভালো উত্তরই নেই, বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দাম, নিয়ম বা মেথড নিয়ে। যে প্রশ্নের ভালো বাংলা উত্তর নেই, সেটা লিখে ফেললে উদ্ধৃত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
যেটা বদলায়নি: সাইট দ্রুত হতে হবে, মোবাইলে ঠিকঠাক চলতে হবে, আর ভেতরের পাতাগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত থাকতে হবে। AEO পুরোনো SEO-র বিকল্প না, তার উপরে বাড়তি স্তর।
একটা পাতা কীভাবে সাজালে উদ্ধৃত হয়
| অংশ | কী করবেন | কেন |
|---|---|---|
| শিরোনাম | মানুষ যেভাবে প্রশ্ন করে সেভাবে | প্রশ্নের সাথে হুবহু মিললে সম্ভাবনা বাড়ে |
| প্রথম অনুচ্ছেদ | ৪০ থেকে ৬০ শব্দে সরাসরি উত্তর | এই অংশটাই তুলে নেওয়া হয় |
| উপশিরোনাম | প্রতিটা একটা প্রশ্ন | আলাদা করে তুলে নেওয়া যায় |
| লিস্ট ও টেবিল | তুলনা আর ধাপ টেবিলে | কাঠামোবদ্ধ তথ্য যন্ত্র সহজে পড়ে |
| FAQ | শেষে ৪ থেকে ৬টা, স্কিমা সহ | প্রশ্ন ও উত্তরের জোড়া স্পষ্ট হয় |
| নিজস্ব তথ্য | স্থানীয় দাম, নিজের ফল | যা শুধু আপনার কাছে আছে তা-ই উদ্ধৃত হওয়ার কারণ |
প্রথম অনুচ্ছেদ লেখার নিয়ম
এটাই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন, আর সবচেয়ে সহজও। ভূমিকা বাদ দিন। “আজকের যুগে প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে” জাতীয় বাক্য দিয়ে শুরু করলে যন্ত্র তুলে নেওয়ার মতো কিছু পায় না।
বদলে শিরোনামের প্রশ্নটার উত্তর প্রথম বাক্যেই দিয়ে দিন, তারপর দুই তিন বাক্যে শর্ত বা ব্যতিক্রম। এরপর বাকি লেখায় বিস্তারিত।
যা মাপবেন
AI সার্চ থেকে আসা ট্রাফিক আলাদা করে দেখা এখনো কঠিন। যা করা যায়: রেফারার হিসেবে AI সেবাগুলোর নাম আসছে কি না দেখুন, আর মাঝে মাঝে নিজের বিষয়ের প্রশ্নগুলো AI-কে করে দেখুন আপনার সাইটের নাম আসে কি না। মাসে একবার এই পরীক্ষা করাই যথেষ্ট।
টেকনিক্যাল দিকগুলো
যেগুলো বদলায়নি: সাইট দ্রুত হতে হবে, মোবাইলে ঠিকঠাক চলতে হবে, ভেতরের পাতাগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত থাকতে হবে, আর সাইটম্যাপ থাকতে হবে।
যেগুলো নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ: প্রতিটা অংশে আলাদা অ্যাঙ্কর থাকা যাতে নির্দিষ্ট অংশে সরাসরি লিংক করা যায়, আর কনটেন্ট যেন JavaScript ছাড়াই পড়া যায়। যেসব পাতা শুধু স্ক্রিপ্ট চালানোর পর দেখা যায়, সেগুলো অনেক ক্রলার পড়তে পারে না।
ছোট সাইটের জন্য এটা ভালো খবর। AI ডোমেইনের বয়স বা ব্যাকলিংকের সংখ্যার চেয়ে উত্তরের স্পষ্টতা বেশি দেখে। নির্দিষ্ট বিষয়ে পরিষ্কার লেখা একটা ছোট সাইট বড় সাইটকে হারাতে পারে।
সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়
AI সার্চ থেকে কি ট্রাফিক আসে?
স্কিমা যোগ করা কি বাধ্যতামূলক?
ছোট সাইটের কি সুযোগ আছে?
AI-কে ব্লক করা উচিত?
পুরোনো লেখাগুলো কি নতুন করে সাজাতে হবে?
কোথা থেকে শুরু করবেন
কোন কাজে কত টাকা, কোন সেশন কী কাজে লাগে আর প্রথম সাত দিনে কী করবেন, পুরো গাইড এক জায়গায় সাজানো আছে।
সম্পর্কিত লেখা
লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে
৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।