মূল অংশে যান
AIinBangla

টেলিগ্রাম টাস্ক জব আর লাইক দিয়ে আয়: কীভাবে টাকা নেয়, কীভাবে বাঁচবেন

টেলিগ্রাম টাস্ক স্ক্যাম কীভাবে কাজ করে, শুরুতে ছোট পেমেন্ট কেন দেয়, বাংলাদেশে ধরা পড়া ঘটনা, আর টাকা দিয়ে ফেললে কোথায় অভিযোগ করবেন।

টেলিগ্রাম টাস্ক জবের প্রতারণা: কাগজের প্লেন, সতর্কতার ত্রিভুজ, কয়েনের স্তূপ আর মুখোশ, কাগজ কেটে বানানো ছবি

টেলিগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপে "লাইক দিলেই টাকা" বা "টাস্ক করে আয়" প্রায় সবসময় একই ফাঁদ: শুরুতে অল্প টাকা দিয়ে বিশ্বাস জিতে নেয়, তারপর বড় টাস্ক বা "আনলক" এর নামে আপনার কাছ থেকেই টাকা নেয় আর উধাও হয়। এপ্রিল ২০২৬ এ এমন এক ফাঁদে একজনের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগে CID দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এক নজরে

  • যে কাজে আয়ের আগে আপনাকে টাকা দিতে হয়, সেটা কাজ না, ফাঁদ।
  • প্রথম ছোট পেমেন্ট দেওয়াই হয় বিশ্বাস জেতার জন্য।
  • বাংলাদেশে CID আর DB এমন একাধিক চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
  • টাকা দিয়ে ফেললে দেরি না করে প্রমাণ রেখে থানায় আর ৯৯৯ এ যোগাযোগ করুন।

ফাঁদটা ধাপে ধাপে যেভাবে কাজ করে

টাস্ক স্ক্যামের ধাপগুলো প্রায় সব জায়গায় এক। নাম বদলায়, প্ল্যাটফর্ম বদলায়, কিন্তু শেষ ধাপে সবসময় আপনাকে টাকা পাঠাতে বলা হয়।

০১অচেনা মেসেজহোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামে: "পার্টটাইম কাজ, দিনে কিছু ভিডিওতে লাইক দিলেই আয়।"
০২ছোট সহজ টাস্ককয়েকটা ইউটিউব ভিডিওতে লাইক, বা কোনো পণ্যে রিভিউ। স্ক্রিনশট পাঠাতে বলে।
০৩প্রথম পেমেন্টবিকাশ বা নগদে অল্প টাকা আসে। এখান থেকেই বিশ্বাস জন্মায়।
০৪টেলিগ্রাম গ্রুপএকটা গ্রুপে যোগ করে, যেখানে অন্যরা প্রতিদিন "আয়ের" স্ক্রিনশট দেয়। এদের অনেকেই চক্রের লোক।
০৫টাকা দিয়ে টাস্ক"প্রিপেইড টাস্ক" বা "ভিআইপি লেভেল": আগে টাকা জমা দিন, কমিশনসহ ফেরত পাবেন।
০৬টাকা আটকে যায়তুলতে গেলে বলে আরও টাস্ক বাকি, বা "ট্যাক্স", "আনলক ফি" দিতে হবে। দিলেই নতুন দাবি।
শেষ ধাপে সবসময় আপনার টাকা চায়।

যত টাকা দেবেন, তত নতুন কারণ দেখানো হবে। একসময় অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেয়, বা গ্রুপটাই উধাও হয়ে যায়।

প্রথম দিকের ছোট পেমেন্ট কেন দেয়

প্রথম পেমেন্ট ফাঁদের সবচেয়ে চালাক অংশ। অল্প টাকা দিয়ে চক্রটা আপনার সন্দেহ মুছে দেয়, যাতে পরে আপনি নিজে থেকে বড় অঙ্ক পাঠান।

টেলিগ্রাম টাস্ক জবের প্রতারণা: সতর্কতার ত্রিভুজ, মোবাইল ফোন আর মুখোশ, কাগজ কেটে বানানো ছবি

মনের দিক থেকে এটা কাজ করে কারণ "টাকা তো পেয়েছি" অনুভূতিটা যুক্তির চেয়ে শক্তিশালী। এরপর গ্রুপের অন্যদের সাজানো স্ক্রিনশট দেখে মনে হয় সবাই আয় করছে, শুধু আপনি পিছিয়ে।

এক লাইনের নিয়ম: যে কাজে আয় করতে হলে আগে আপনাকে টাকা দিতে হয়, সেটা চাকরি না। আসল ক্লায়েন্ট কাজের জন্য আপনাকে টাকা দেয়, আপনার কাছে চায় না।

বাংলাদেশে ধরা পড়া ঘটনা

এগুলো বানানো গল্প না, জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মামলা। প্রতিটায় অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হয়েছে।

  • প্রায় ৪০ লাখ টাকা, এপ্রিল ২০২৬: বাসসের খবর অনুযায়ী CID ঢাকায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, টেলিগ্রামে একটা "প্ল্যাটফর্মে" প্রথমে কমিশন আর বোনাস দিয়ে বিশ্বাস জেতা হয়, তারপর ব্যাংক আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বড় জমা আর নানা "ফি" নেওয়া হয়, শেষে টাকা তুলতে দেওয়া হয়নি। একজনের কাছ থেকেই প্রায় ৩৯.৫৬ লাখ টাকা (বাসস)।
  • ৮ জন গ্রেপ্তার, জানুয়ারি ২০২৬: ইউএনবির খবর অনুযায়ী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (DB) টেলিগ্রামভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে। ভুয়া চাকরি আর বেশি লাভের প্রলোভন দেওয়া হতো; উদ্ধার হয় ৫১ হাজারের বেশি সিম কার্ড (ইউএনবি)।
  • ৯৪ লাখ টাকার বেশি, সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর খবর: ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, টেলিগ্রামে ভুয়া চাকরির প্রস্তাব আর একটা নকল ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে একজনের কাছ থেকে ৯৪ লাখ টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগে CID কিশোরগঞ্জ থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে (ঢাকা ট্রিবিউন)।

উদ্ধার হওয়া হাজার হাজার সিম দেখায়, এরা একসাথে অসংখ্য মানুষকে মেসেজ পাঠায়। আপনি বিশেষ কেউ বলে মেসেজ আসেনি, লাখো নম্বরের একটা হিসেবে এসেছে।

মেসেজ এলে কী করবেন

অচেনা নম্বর থেকে "সহজ আয়ের" মেসেজ এলে উত্তর না দিয়ে রিপোর্ট আর ব্লক করুন। কথা বাড়ালে ওরা আরও কৌশল নিয়ে আসে।

টেলিগ্রাম টাস্ক জবের প্রতারণা: কাগজের প্লেন, তালা আর টাকার কয়েন, কাগজ কেটে বানানো ছবি
  • কোনো লিংকে ক্লিক করবেন না, কোনো অ্যাপ নামাবেন না।
  • OTP, বিকাশ বা নগদের PIN, NID এর ছবি কাউকে দেবেন না।
  • টেলিগ্রাম আর হোয়াটসঅ্যাপ দুটোতেই চ্যাটের ভেতর থেকে Report আর Block করা যায়।
  • হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংসে কে আপনাকে গ্রুপে যোগ করতে পারবে, সেটা "My contacts" করে রাখুন।
  • পরিবারের বয়স্ক আর কম বয়সী সদস্যদের এই লেখাটা দেখান। ফাঁদে বেশি পড়েন যারা প্রথমবার অনলাইনে আয় খুঁজছেন।

লাইক ছাড়াও একই ফাঁদ আসে নানা চেহারায়: গুগল ম্যাপে দোকানের রিভিউ দেওয়া, অ্যাপ নামিয়ে রেটিং দেওয়া, অনলাইন শপের "অর্ডার বুস্ট" করা, বা হোটেলের রেটিং বাড়ানো। কাজের নাম যাই হোক, শেষ ধাপে "জমা" চাইলে বুঝবেন একই ফাঁদ।

অন্য ধরনের অনলাইন প্রতারণা চেনার লক্ষণ একসাথে আছে অনলাইন ইনকামের স্ক্যাম চেনার ১০টা লক্ষণ লেখায়।

টাকা দিয়ে ফেললে যা করবেন

লজ্জা পেয়ে চুপ থাকবেন না, আর টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় নতুন করে টাকা দেবেন না। যত দ্রুত জানাবেন, তত ভালো।

০১আর একটা টাকাও না"টাকা ছাড়াতে ফি দিন" বলবে, দেবেন না। "টাকা উদ্ধার করে দেব" বলা লোকও প্রায়ই একই চক্রের।
০২প্রমাণ রাখুনচ্যাটের স্ক্রিনশট, নম্বর, টেলিগ্রাম ইউজারনেম, লেনদেনের নম্বর আর সময় সেভ করুন। চ্যাট মুছবেন না।
০৩লেনদেন জানানবিকাশে পাঠালে বিকাশ হেল্পলাইন ১৬২৪৭, নগদে পাঠালে ১৬১৬৭, ব্যাংকে পাঠালে নিজের ব্যাংকে, সাথে সাথে লেনদেনের তথ্যসহ।
০৪থানায় যাননিকটস্থ থানায় জিডি বা মামলা করুন, প্রমাণগুলো সাথে নিন। জরুরি অবস্থায় ৯৯৯।
আর টাকা না, প্রমাণ রাখুন, দ্রুত জানান।

নারী ভুক্তভোগীরা পুলিশের Police Cyber Support for Women এর হটলাইন ০১৩২০০০০৮৮৮ এ যোগাযোগ করতে পারেন, নম্বরটা বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটে দেওয়া। টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না, তবে দ্রুত অভিযোগ চক্র ধরতে সাহায্য করে।

আসল অনলাইন কাজ দেখতে কেমন

আসল কাজে আপনি কিছু বানান বা কোনো সমস্যার সমাধান করেন, আর যার কাজ সে টাকা দেয়। লাইক, ভিউ বা রিভিউ দিয়ে টাকা আয়ের কাজ আসলে প্ল্যাটফর্মের নিয়ম ভাঙা, আর বেশিরভাগ সময় প্রতারণার মুখোশ।

বিষয় ফাঁদ আসল কাজ
কে যোগাযোগ করে অচেনা নম্বর, নিজে থেকে আপনি ক্লায়েন্ট খোঁজেন, বা পরিচিতের মাধ্যমে আসে
কাজটা কী লাইক, রিভিউ, "অর্ডার বুস্ট" ছবি, ভিডিও, লেখা, পেজ চালানো
টাকা কোন দিকে যায় শেষে আপনি টাকা দেন সবসময় ক্লায়েন্ট আপনাকে দেয়
আয়ের প্রতিশ্রুতি নির্দিষ্ট, বড়, দ্রুত কাজ আর দক্ষতার উপর নির্ভর করে
তাড়া "আজই", "সীমিত সুযোগ" তাড়া নেই, প্রশ্ন করার সুযোগ আছে

আসল কাজে প্রথম টাকা আসতে সময় লাগে, সেটা সত্যি। এলাকার দোকান বা ফেসবুক পেজের জন্য ছবি, পোস্ট বা ছোট ভিডিও বানিয়ে কীভাবে প্রথম ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়, তার ধাপ আছে প্রথম ক্লায়েন্ট কোথায় পাবেন লেখায়। কিন্তু সেই টাকা আপনার দক্ষতার, আর কেউ কেড়ে নিতে পারে না।

তথ্যসূত্র: বাসস, এপ্রিল ২০২৬; ইউএনবি, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬; ঢাকা ট্রিবিউন, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬; বাংলাদেশ পুলিশ, police.gov.bd. সর্বশেষ যাচাই: ৭ অক্টোবর ২০২৬।

সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়

প্রথমে টাকা পেয়েছি, তাহলে কি এটা আসল?
না। প্রথম ছোট পেমেন্ট এই ফাঁদের অংশ, যাতে আপনি বিশ্বাস করে পরে বড় অঙ্ক পাঠান। এখনই থামুন, আর কোনো জমা, লেভেল বা আনলক ফি দেবেন না।
এরা আমার নম্বর পেল কোথায়?
বেশিরভাগ সময় এলোমেলোভাবে বা ফাঁস হওয়া নম্বরের লিস্ট থেকে একসাথে হাজার হাজার মানুষকে মেসেজ পাঠানো হয়। ধরা পড়া এক চক্রের কাছে ৫১ হাজারের বেশি সিম পাওয়া গেছে, তাই আপনাকে আলাদা করে বেছে নেওয়া হয়েছে এমন না।
গ্রুপ থেকে বের হলে কি সমস্যা হবে?
না। গ্রুপ থেকে বের হয়ে নম্বর ব্লক করুন। ভয় দেখিয়ে মেসেজ দিলে উত্তর দেবেন না, স্ক্রিনশট রেখে থানায় জানান। আপনার কোনো তথ্য দিয়ে থাকলে সেটাও অভিযোগে লিখুন।
রিপোর্ট কোথায় করব?
নিকটস্থ থানায় জিডি বা মামলা করুন, জরুরি হলে ৯৯৯ এ ফোন দিন। টাকা পাঠানো লেনদেন বিকাশ ১৬২৪৭, নগদ ১৬১৬৭ বা নিজের ব্যাংকে জানান, আর নারী ভুক্তভোগীরা পুলিশের নারী সাইবার সহায়তা হটলাইন ০১৩২০০০০৮৮৮ এ যোগাযোগ করতে পারেন।
টেলিগ্রামের সব চাকরির গ্রুপই কি ভুয়া?
সব না, কিছু গ্রুপে আসল চাকরির খবরও শেয়ার হয়। কিন্তু যেখানে কাজ শুরুর আগে টাকা চায়, লাইক বা রিভিউয়ের বিনিময়ে আয়ের কথা বলে, বা নিয়োগকর্তার পরিচয় যাচাই করা যায় না, সেখান থেকে দূরে থাকুন।

প্রথম ক্লায়েন্ট থেকে প্রথম টাকা পর্যন্ত

প্রথম ইনকাম কোর্সে ১০টা বাংলা লেসনে লোকাল ক্লায়েন্ট খোঁজা, মেসেজ, দাম ঠিক করা আর বাংলাদেশে টাকা নেওয়া ধাপে ধাপে দেখানো আছে।

প্রথম ইনকাম কোর্সটা দেখুন

১১টা বাংলা AI বই, ফ্রি

ChatGPT, Claude ও Gemini, AI টুল, কনটেন্ট, ব্যবসার প্রম্পট, ফেসলেস ইউটিউব আর আরও কয়েকটা। যে কাজে আটকে আছেন, সেই বইটা পিক করুন।

আপনার বইটা পিক করুন

বিষয়
নাসির উদ্দিন শামীম
লেখক

নাসির উদ্দিন শামীম

ঢাকা থেকে বলছি। ইন্টারনেট মার্কেটিং করি, আর নতুন কোনো এআই টুল বের হলেই সেটা ধরে দেখি কাজে লাগে কি না। যেটা সত্যিই কাজের, সেটা নিয়ে ফেসবুক আর ইউটিউবে কথা বলি। এখানে সেই জিনিসগুলোই গুছিয়ে শেখানোর চেষ্টা করি, যাতে আপনি নিজেও কাজে লাগাতে পারেন।

পড়া শেষ?

লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে

৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।

Nasir Uddin Shamim

Nasir Uddin Shamim

Typically replies within 5-10 minutes.

I will be back soon

Nasir Uddin Shamim
Hey there 👋
It’s your friend Nasir Uddin Shamim. How can I help you?