ফেসবুক অ্যাড অ্যাকাউন্ট আর Meta Business Portfolio খোলার নিয়ম, বাংলাদেশ থেকে
ফেসবুক অ্যাড অ্যাকাউন্ট আর Meta Business Portfolio খোলার ধাপ, কী কী লাগে, বাংলাদেশ থেকে পেমেন্টের উপায়, আর অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হলে কোথায় দেখবেন।
ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থাকলেই আপনার একটা অ্যাড অ্যাকাউন্ট আপনাআপনি থাকে; বিজ্ঞাপন দিতে লাগে একটা ফেসবুক পেজ আর একটা বৈধ পেমেন্ট পদ্ধতি। একাধিক ব্যবসা বা ক্লায়েন্ট সামলাতে business.facebook.com এ Meta Business Portfolio খুলুন, তারপর সেখানে অ্যাড অ্যাকাউন্ট, পেজ আর পিক্সেল এক জায়গায় রাখুন।
এক নজরে
- ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সাথেই একটা অ্যাড অ্যাকাউন্ট থাকে, প্রথম পেমেন্টের আগে একটার বেশি না।
- Business Portfolio একজন নিজে সর্বোচ্চ দুইটা খুলতে পারেন, যোগ দিতে পারেন যতগুলো খুশি।
- Meta এর বাংলাদেশ পাতায় কার্ড আর PayPal লেখা, বিকাশ আসার খবর এসেছে সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ।
- অ্যাকাউন্ট আটকালে Meta Business Support Home এ গিয়ে কারণ আর রিভিউয়ের পথ দেখুন।
ফেসবুক অ্যাড অ্যাকাউন্ট কী, আর কোথায় পাবেন?
অ্যাড অ্যাকাউন্ট হলো সেই জায়গা যেখান থেকে বিজ্ঞাপন বানানো, টাকা দেওয়া আর ফল দেখা হয়। নতুন করে খুলতে হয় না: Meta Business Help অনুযায়ী ফেসবুকে সাইন আপ করলেই ডিফল্টভাবে একটা অ্যাড অ্যাকাউন্ট আর অ্যাড অ্যাকাউন্ট আইডি পাওয়া যায় (Meta Business Help)।
সেটা দেখতে Ads Manager খুলুন। একটাই অ্যাড অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটাই আপনাআপনি বাছা থাকে।
একটা জরুরি নিয়ম: প্রথম পেমেন্ট সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত সব বিজ্ঞাপনদাতা একটাই অ্যাড অ্যাকাউন্ট আইডি পান। Meta বলছে, প্রথম পেমেন্টের পর হয়তো বেশি অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমতি দেবে, আর এই সীমা প্রতারণা ঠেকাতে।
বিজ্ঞাপন দেওয়ার আগে কী কী লাগে?
তিনটা জিনিস: নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট, একটা ফেসবুক পেজ (বা অন্যের পেজে admin, editor বা advertiser ভূমিকা), আর একটা বৈধ পেমেন্ট পদ্ধতি। Meta এর পাতায় এই কয়টাই শর্ত হিসেবে লেখা।

- নিজের আসল প্রোফাইল: নাম, ছবি আর তথ্য সত্যি রাখুন। ভুয়া প্রোফাইল থেকে বিজ্ঞাপন দিলে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
- টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন: Meta এর advertising restrictions পাতায় লেখা, টু ফ্যাক্টর নিরাপত্তার শর্ত না মানলেও বিজ্ঞাপনে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তাই আগেই চালু করুন।
- পেজ: যে পেজের নামে বিজ্ঞাপন যাবে। পেজ চালানোর গোছানো নিয়ম আছে AI দিয়ে ফেসবুক পেজ চালানোর লেখায়।
- পেমেন্ট পদ্ধতি: নিচে আলাদা অংশে বিস্তারিত।
শুধু Instagram থেকে শুরু করতে চাইলে ছোট একটা ছাড় আছে। Meta লিখেছে, Instagram প্রফেশনাল অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথমবার পোস্ট বুস্ট করতে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট লাগে না, তবে তখন অ্যাড অ্যাকাউন্টের কিছু দরকারি ফিচার আর সেটিং পাওয়া যায় না। নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিলে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আর অ্যাড অ্যাকাউন্ট দিয়েই করুন।
Meta আরও জানিয়েছে, নতুন business portfolio বা অ্যাড অ্যাকাউন্টে শুরুতে সব বিজ্ঞাপনের ফিচার না-ও থাকতে পারে। কোন ফিচার আছে আর কী করলে বাকিগুলো পাবেন, তা Business Support Home এ দেখা যায়।
Meta Business Portfolio কী, আর কখন দরকার?
Business Portfolio (আগে অনেকে Business Manager বলতেন) হলো ব্যবসার পেজ, Instagram অ্যাকাউন্ট, অ্যাড অ্যাকাউন্ট, অ্যাপ আর Meta পিক্সেল এক জায়গায় রাখার ব্যবস্থা। একটা ছোট পেজের জন্য শুরুতে এটা বাধ্যতামূলক না।
দরকার হয় তখন, যখন কয়েকটা ব্যবসা বা ক্লায়েন্টের বিজ্ঞাপন সামলান, দলের অন্যদের অ্যাক্সেস দিতে চান, বা একাধিক অ্যাড অ্যাকাউন্ট লাগে। Meta এর পাতায় লেখা, business portfolio এর অ্যাড অ্যাকাউন্ট দিয়ে Meta এর উন্নত বিজ্ঞাপনের সমাধানগুলো পাওয়া যায়।
| পরিস্থিতি | কী ব্যবহার করবেন |
|---|---|
| নিজের একটা পেজ, মাঝে মাঝে বুস্ট | ব্যক্তিগত অ্যাড অ্যাকাউন্টই যথেষ্ট |
| নিজের ব্যবসা, নিয়মিত বিজ্ঞাপন, পিক্সেল | একটা Business Portfolio |
| কয়েকজন ক্লায়েন্টের বিজ্ঞাপন চালান | ক্লায়েন্টের নিজের Portfolio, আপনাকে পার্টনার বা মানুষ হিসেবে যোগ করবে |
| দলের কয়েকজন একসাথে কাজ করে | Portfolio তে মানুষ যোগ করে আলাদা অনুমতি দিন |
ক্লায়েন্টের কাজে নিয়ম: পেজ, অ্যাড অ্যাকাউন্ট আর পেমেন্ট ক্লায়েন্টের নামেই থাকুক, আপনি অ্যাক্সেস নিয়ে কাজ করুন। Meta এর পাতায় লেখা, একটা business asset একসাথে একটাই portfolio তে থাকতে পারে, তাই পেজ নিজের portfolio তে নিয়ে নিলে পরে ঝামেলা হয়।
Business Portfolio খোলার ধাপ কী?
কাজটা কম্পিউটারে কয়েক মিনিটের। Meta Business Help এর ধাপ অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত:

সীমা মনে রাখুন: একজন নিজে সর্বোচ্চ দুইটা business portfolio খুলতে পারেন, তবে কয়টা portfolio তে যোগ দেবেন তার সীমা নেই (Meta Business Help)। portfolio তে যোগ করা মানুষেরা আপনার যোগাযোগের তথ্য দেখতে পান।
ওয়েবসাইট থাকলে পরের ধাপ পিক্সেল বসানো, ধাপ আছে ফেসবুক পিক্সেল সেটআপ গাইডে।
বাংলাদেশ থেকে বিজ্ঞাপনের টাকা কীভাবে দেবেন?
Meta এর অফিশিয়াল “Accepted payment options” পাতায় বাংলাদেশের জন্য লেখা আছে ক্রেডিট কার্ড বা কো ব্র্যান্ডেড ডেবিট কার্ড (American Express, Mastercard, Visa) আর PayPal, দুটোই তাদের গ্রহণযোগ্য মুদ্রায় (Meta Business Help)। এটা ১৪ অক্টোবর ২০২৬ এ দেখা।
তবে সংবাদ মাধ্যমে এসেছে, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের ব্যবসাগুলো Meta বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্টের সেটিংসে বিকাশ যোগ করে টাকা দিতে পারবে (UNB, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। Meta এর দেশভিত্তিক পাতায় আমরা এখনো বিকাশের নাম দেখিনি, তাই নিজের অ্যাকাউন্টের পেমেন্ট সেটিংসে চেক করে নিন।
বিকাশ যোগ করার ধাপ আর সাধারণ সমস্যা নিয়ে আলাদা লেখা আছে: বিকাশ দিয়ে ফেসবুক বুস্ট আর বিজ্ঞাপনের পেমেন্টের নিয়ম।
প্রথম বিজ্ঞাপনের সময় যে পেমেন্ট পদ্ধতি বাছবেন, সেটাই ঠিক করে অ্যাকাউন্ট কীভাবে টাকা কাটবে। Meta এর পাতায় লেখা, কার্ড বা PayPal দিলে সাধারণত স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট হয়, আর লোকাল ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আগে টাকা জমা রেখে খরচ হয়। পরে বদলানো সবসময় যায় না, তাই ভেবে বাছুন।
অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড বা ডিজেবল হলে কী করবেন?
নিষেধাজ্ঞা হতে পারে, আর এটা নতুনদের সাথেও ঘটে। Meta এর পাতায় কারণ হিসেবে লেখা: বিজ্ঞাপন বা কমিউনিটি নীতি ভাঙা, অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সন্দেহ, টু ফ্যাক্টর নিরাপত্তা না থাকা, অস্বাভাবিক লেনদেন, বা বারবার পেমেন্ট ব্যর্থ হওয়া (Meta, About advertising restrictions)।
নিষেধাজ্ঞা নানা রকম হয়: দৈনিক খরচের সীমা কমানো, কিছু পেমেন্ট বা বিজ্ঞাপনের ফিচার বন্ধ, অথবা পুরোপুরি বিজ্ঞাপন বন্ধ। কী হয়েছে দেখতে:
- কম্পিউটারে Meta Business Support Home খুলুন (পুরনো Account Quality পাতা থেকেও এখানে আসা যায়)।
- Account overview থেকে আটকে যাওয়া অ্যাকাউন্টটা বাছুন।
- What you can do অংশে Meta যা বলে তা করুন: পরিচয় নিশ্চিত করা, ভেরিফিকেশন, অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করা বা রিভিউ চাওয়া।
রিভিউ চাইতে অ্যাকাউন্টের admin হতে হয় (Meta, Troubleshoot a disabled or restricted account)। নীতি ভাঙার জন্য বন্ধ অ্যাড অ্যাকাউন্ট ছয় মাস ফেরত পাওয়ার অযোগ্য থাকলে আর ফেরত আসে না, আর আইন যেখানে অনুমতি দেয় সেখানে না খরচ হওয়া প্রিপেইড টাকা হারাতে পারেন বলে Meta জানিয়েছে।
অন্যের অ্যাড অ্যাকাউন্ট ভাড়া নেওয়া বা কেনা, আটকে যাওয়ার পর নিয়ম এড়াতে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা, আর “গ্যারান্টিড আনব্লক” সার্ভিসে পাসওয়ার্ড দেওয়া, তিনটাই বিপজ্জনক। Meta নিয়ম এড়ানোর চেষ্টাকে আলাদা নীতিভঙ্গ হিসেবে দেখে, আর পাসওয়ার্ড দিলে পেজ আর টাকা দুটোই হারাতে পারেন।
শুরুতে কোন ভুলগুলো এড়াবেন?
বেশিরভাগ ঝামেলা আসে তাড়াহুড়া থেকে। কয়েকটা অভ্যাস রাখলে অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকে।
- নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেই বড় বাজেটে বিজ্ঞাপন না দিয়ে ছোট বাজেটে শুরু করুন।
- একই কার্ড বা পেমেন্ট পদ্ধতি অনেকগুলো অচেনা অ্যাকাউন্টে যোগ করবেন না।
- বিজ্ঞাপনের ছবি আর লেখায় মিথ্যা দাবি, “১০০% গ্যারান্টি” বা অন্যের ব্র্যান্ড ব্যবহার করবেন না।
- portfolio তে অন্তত আরেকজন বিশ্বস্ত admin রাখুন, যাতে একজনের প্রোফাইল আটকালেও ব্যবসা না থামে।
- অচেনা লিংক থেকে “Meta Support” বা “আপনার পেজ বন্ধ হবে” লেখা মেসেজ এলে লগইন করবেন না। Meta এর আসল নোটিশ Business Support Home আর ফেসবুকের নোটিফিকেশনেই দেখা যায়।
- বিলিংয়ের রসিদ আর লেনদেনের তালিকা মাসে একবার মিলিয়ে দেখুন, অচেনা খরচ চোখে পড়লে সাথে সাথে খোঁজ নিন।
এক কথায়: নিজের নামে অ্যাকাউন্ট, নিজের পেমেন্ট, সুরক্ষিত লগইন আর সৎ বিজ্ঞাপন। এই চারটা ঠিক থাকলে বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
অ্যাকাউন্ট তৈরি হলে আসল কাজ শুরু: বিজ্ঞাপনের ছবি, ভিডিও আর লেখা। কাস্টম অডিয়েন্স দিয়ে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর নিয়ম আছে কাস্টম অডিয়েন্স আর Lookalike গাইডে, আর AI দিয়ে ক্রিয়েটিভ থেকে ক্যাম্পেইন পর্যন্ত শেখানো হয় AI ইমেজ ও অ্যাড Masterclass এ।
তথ্যসূত্র: Meta, How to create an ad account; Meta, Create a business portfolio; Meta, Accepted payment options; Meta, About advertising restrictions; Meta, Troubleshoot a restricted account; UNB, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬. সর্বশেষ যাচাই: ১৪ অক্টোবর ২০২৬।
সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়
ফেসবুক অ্যাড অ্যাকাউন্ট কিভাবে খুলব?
Business Manager আর Business Portfolio কি একই?
কার্ড ছাড়া ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেওয়া যায়?
অ্যাড অ্যাকাউন্ট রেস্ট্রিক্টেড হলে কী করব?
ফেসবুক অ্যাড অ্যাকাউন্ট কেনা কি নিরাপদ?
ছবি আর বিজ্ঞাপন বানানো শিখতে চাইলে
AI ইমেজ ও অ্যাড Masterclass এ পণ্যের ছবি, বিজ্ঞাপনের ছবি আর ভিডিও অ্যাড AI দিয়ে বানানো বাংলায় দেখানো আছে।

ফেসবুক মনিটাইজেশন গাইড
ফেসবুকে আয়ের ধাপ, একটা পূর্ণ ভিডিওর উদাহরণ, বাংলাদেশ থেকে টাকা হাতে পাওয়ার ধাপ আর প্রকাশের আগের চেকলিস্ট।
সম্পর্কিত লেখা
লেখাটা পড়েছেন মানে আপনি জিনিসটা বুঝেছেন, এখন এইটা আরও Detailed শিখে কাজে নেমে যাওয়ার পালা...
৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।