Fiverr বা Upwork অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়া বা কেনা: কেন সব হারাতে পারেন
Fiverr account kena বা ভাড়া দেওয়া কেন নিয়মবিরুদ্ধ, ২০২৬ এ বাংলাদেশে কী ঘটেছে, Fiverr আর Upwork এর নিয়ম কী বলে আর নিজের অ্যাকাউন্ট গড়ার পথ।
Fiverr account kena, বিক্রি করা বা অন্যের নামে খোলা অ্যাকাউন্টে কাজ করা Fiverr আর Upwork দুটোর নিয়মেই নিষেধ, ধরা পড়লে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয় আর জমা টাকা তুলতে মাসের পর মাস আটকে থাকতে পারে। ২০২৬ এ বাংলাদেশে হাজারো মানুষের NID দিয়ে অ্যাকাউন্ট চালানোর অভিযোগ ওঠার পর প্রায় ৩০০ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হয়েছে।
এক নজরে
- Fiverr এর নিয়মে সরাসরি লেখা: অ্যাকাউন্ট কেনা বা বেচা যাবে না।
- Upwork এর নিয়মে অ্যাকাউন্ট শেয়ার, বিক্রি বা অন্যকে দেওয়া নিষেধ।
- অন্যকে NID দিলে তার কাজের দায় আপনার নামে আসতে পারে।
- ধীরে হলেও নিজের নামে, নিজের অ্যাকাউন্টই একমাত্র নিরাপদ পথ।
কেন মানুষ অ্যাকাউন্ট কেনে বা ভাড়া দেয়
কারণটা বোঝা যায়। নতুন অ্যাকাউন্টে মাসের পর মাস একটাও অর্ডার আসে না, আর ফেসবুক গ্রুপে কেউ বলে "লেভেল ২ অ্যাকাউন্ট আছে, রিভিউসহ, সাথে সাথে কাজ পাবেন"। ধৈর্য হারানো একজনের কাছে এটা শর্টকাট মনে হয়।
উল্টো দিকে আছে ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব: "আপনার NID দিন, আমরা অ্যাকাউন্ট খুলে চালাব, মাসে মাসে কিছু টাকা দেব।" যার হাতে কাজ নেই, তার কাছে বিনা পরিশ্রমে টাকার কথা লোভনীয় লাগে।
দুই পথেই একই সমস্যা: প্ল্যাটফর্মের চোখে আপনি এমন একজনের নামে কাজ করছেন যে আসলে কাজটা করছে না। আর প্ল্যাটফর্ম এটা খুঁজে বের করতে পরিচয় যাচাই করে।
"একটা অর্ডারও পেলাম না" অবস্থা থেকে বের হওয়ার আসল পথ আছে, শর্টকাট না। সেটা নিচে শেষের দিকে।
২০২৬ এ যা ঘটেছে
প্রথম আলো ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ জানিয়েছে, একটা দেশি আইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তারা হাজারো কর্মীর NID বা পাসপোর্টের তথ্য দিয়ে Fiverr অ্যাকাউন্ট খুলে চালিয়েছে (Prothom Alo, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬)। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

একই রিপোর্ট অনুযায়ী জুলাইয়ের শেষে প্রায় ৩০০ অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হয়, আর আরও কয়েক হাজার অ্যাকাউন্ট নজরদারিতে আসে বলে জানা যায়। ৪ আগস্ট ২০২৬ এ Fiverr এর বাংলাদেশ ফোরামে একটা নোটিশ আসে, যেখানে অন্যের পক্ষে অ্যাকাউন্ট খুলে নিয়ন্ত্রণ করা, ভুয়া রিভিউ আর ভুয়া অর্ডারের কথা বলা হয়, আর নিয়ম ভাঙা অ্যাকাউন্টকে সতর্ক করে লেভেল নামিয়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়।
এই ঘটনার শিক্ষা হলো: নিয়ম ভাঙলে শুধু যে চালায় সে না, যার নামে অ্যাকাউন্ট সেও বিপদে পড়ে। আর একসাথে অনেক অ্যাকাউন্ট ধরা পড়লে পুরো দেশের ফ্রিল্যান্সারদের সুনামেও দাগ লাগে।
প্ল্যাটফর্মের নিয়ম কী বলে
দুই প্ল্যাটফর্মের নিয়মই পরিষ্কার: এক মানুষ, এক অ্যাকাউন্ট, নিজের পরিচয়ে। কেনা, বেচা, ভাড়া বা শেয়ার, কোনোটারই অনুমতি নেই।
| বিষয় | Fiverr | Upwork |
|---|---|---|
| অ্যাকাউন্ট কেনা বা বেচা | নিষেধ, Terms of Service এ সরাসরি লেখা | নিষেধ, বিক্রি, বিনিময় বা অন্যকে দেওয়া যাবে না |
| অ্যাকাউন্ট কয়টা | একজনের একটা সক্রিয় অ্যাকাউন্ট | একজনের একটা অ্যাকাউন্ট |
| অন্যের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার | নিষেধ, অন্যের নামে প্রোফাইল বানানোও নিষেধ | নিষেধ, পাসওয়ার্ড শেয়ারও নিষেধ |
| পরিচয় যাচাই | ID চাইতে পারে | সরকারি পরিচয়পত্র আর অবস্থান যাচাই করতে পারে |
| ধরা পড়লে | সতর্কতা, সীমাবদ্ধতা, স্থায়ী সাসপেনশন | সাসপেনশন বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ, টাকা আটকে রাখা |
Fiverr এর নিয়ম প্রয়োগের পাতা অনুযায়ী, সাসপেন্ড হওয়া ফ্রিল্যান্সার লগ ইন করতে পারেন না, আর জমা টাকা তুলতে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হয় (Fiverr Help Center, How we enforce policies)। একাধিক অ্যাকাউন্ট বা পরিচয় লুকানোর কারণে বিক্রির অযোগ্যও ঘোষণা করা হতে পারে।
Upwork এর User Agreement বলে, পরিচয়ের ভুল তথ্য দিলে অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড বা বন্ধ হতে পারে, আর জালিয়াতির সন্দেহ হলে পেমেন্ট আটকে রাখা হতে পারে (Upwork Legal, User Agreement, অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত)।
আপনার NID দিলে আপনার ঝুঁকি
NID দিয়ে কাউকে অ্যাকাউন্ট খুলতে দেওয়া মানে নিজের পরিচয়টা তার হাতে তুলে দেওয়া। সেই অ্যাকাউন্টে যা কিছু হবে, কাগজে কলমে সেটা আপনার নামে।

ঝুঁকিগুলো: অ্যাকাউন্টে প্রতারণা হলে অভিযোগ আসে আপনার নামে; একবার বন্ধ হলে পরে নিজে সত্যি সত্যি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে গেলে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কঠিন হতে পারে; আর আপনার NID এর তথ্য আর কোথায় কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, সেটা আর আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।
প্রতিশ্রুত "মাসিক টাকা" অনেক সময় আসেই না, কারণ চুক্তিটা লিখিত না, আর নিয়মবিরুদ্ধ চুক্তি নিয়ে অভিযোগ করারও জায়গা থাকে না। এমন প্রস্তাব আসলে অনলাইন প্রতারণার পরিচিত ফাঁদেরই একটা রূপ। কীভাবে চিনবেন, পড়ুন অনলাইন ইনকাম স্ক্যাম চেনার উপায়।
কেনার দিকেও একই ঝুঁকি। কেনা অ্যাকাউন্টের আসল মালিকের নাম আর পরিচয় বদলানো যায় না। প্ল্যাটফর্ম ID চাইলে আপনার কিছুই দেখানোর থাকে না, আর ভেতরে জমা টাকাও তার নামে।
নিজের অ্যাকাউন্ট ধীরে গড়ার পথ
নতুন অ্যাকাউন্টে প্রথম অর্ডার পেতে সময় লাগে, এটা সত্যি। কিন্তু নিজের নামের অ্যাকাউন্ট ধীরে গড়লে সেটা আপনার সম্পদ, কেউ কেড়ে নিতে পারে না।
Fiverr এ প্রথম অর্ডার পাওয়ার বিস্তারিত কৌশল আছে Fiverr এ প্রথম অর্ডার পাওয়ার গাইডে। অনেকের জন্য প্রথম টাকা আসে দেশের ক্লায়েন্ট থেকেই, তারপর বিদেশি মার্কেটপ্লেসে।
নিজের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখার অভ্যাস
নিজের অ্যাকাউন্ট খুললেই কাজ শেষ না, সেটা নিরাপদও রাখতে হয়। অনেকে নিয়ম না জেনে এমন কাজ করেন যেটা দেখতে অ্যাকাউন্ট শেয়ারের মতো লাগে।
- পাসওয়ার্ড কাউকে না: বন্ধু বা "অ্যাকাউন্ট সাজিয়ে দেব" বলা কাউকেও না। Upwork এর নিয়মে পাসওয়ার্ড শেয়ার সরাসরি নিষেধ।
- টু ফ্যাক্টর চালু রাখুন: লগ ইনে ফোনের কোড চাইলে কেউ পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও ঢুকতে পারে না।
- নিজের ডিভাইস থেকে লগ ইন: সাইবার ক্যাফে বা অন্যের ফোন থেকে লগ ইন এড়িয়ে চলুন, কাজ শেষে লগ আউট করুন।
- সত্যি অবস্থান: Upwork অবস্থান যাচাই করতে পারে। ভুল দেশ দেখাতে VPN চালিয়ে লগ ইন করবেন না।
- পেমেন্ট নিজের নামে: টাকা তোলার মাধ্যমও নিজের নামে রাখুন, অন্যের Payoneer বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না।
তথ্যসূত্র: Prothom Alo, Fiverr accounts manipulation, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬; Fiverr Help Center, How we enforce policies; Upwork Legal, User Agreement ও Terms of Use; Fiverr Terms of Service ও Community Standards. সর্বশেষ যাচাই: ৭ অক্টোবর ২০২৬।
সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়
লেভেল ওয়ালা অ্যাকাউন্ট কিনলে কি দ্রুত কাজ পাব?
পরিবারের কারো অ্যাকাউন্টে কাজ করা যায়?
অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলে টাকা ফেরত পাব?
কেউ NID চাইলে কী বলব?
এজেন্সিতে চাকরি করলে কী নিয়ম?
প্রথম ক্লায়েন্ট থেকে প্রথম টাকা পর্যন্ত
প্রথম ইনকাম কোর্সে ১০টা বাংলা লেসনে লোকাল ক্লায়েন্ট খোঁজা, মেসেজ, দাম ঠিক করা আর বাংলাদেশে টাকা নেওয়া ধাপে ধাপে দেখানো আছে।

ফেসবুক মনিটাইজেশন গাইড
ফেসবুকে আয়ের ধাপ, একটা পূর্ণ ভিডিওর উদাহরণ, বাংলাদেশ থেকে টাকা হাতে পাওয়ার ধাপ আর প্রকাশের আগের চেকলিস্ট।
সম্পর্কিত লেখা
লেখাটা পড়েছেন মানে আপনি জিনিসটা বুঝেছেন, এখন এইটা আরও Detailed শিখে কাজে নেমে যাওয়ার পালা...
৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।