মূল অংশে যান
AIinBangla

AI স্টোরিবোর্ড: আগে স্থির ছবি, তারপর ছবি থেকে ভিডিও ক্লিপ বানানোর নিয়ম

AI storyboard কীভাবে বানাবেন: শট লিস্টের টেমপ্লেট, সব ফ্রেমে একই স্টাইল আর চরিত্র, প্রতিটা ছবি থেকে ভিডিও ক্লিপ, আর ক্লিপ জোড়া দেওয়ার নিয়ম, প্রম্পট সহ।

লেখার বিষয়: AI স্টোরিবোর্ড: আগে স্থির ছবি, তারপর ছবি থেকে ভিডিও ক্লিপ বানানোর নিয়ম

AI storyboard মানে ভিডিও বানানোর আগে প্রতিটা শটের একটা করে স্থির ছবি AI দিয়ে বানিয়ে নেওয়া, তারপর সেই ছবিগুলোকেই ভিডিও টুলে দিয়ে ক্লিপ বানানো। এতে দামি ভিডিও ক্রেডিট খরচের আগেই দেখে নেওয়া যায় গল্প, চরিত্র আর আলো ঠিক আছে কি না, আর সব ক্লিপ একই রকম দেখায়।

এক নজরে

  • আগে শট লিস্ট, তারপর প্রতিটা শটের একটা স্থির ছবি, শেষে ছবি থেকে ক্লিপ।
  • সব ফ্রেমে একই স্টাইল লাইন আর একই চরিত্রের বর্ণনা হুবহু বসান।
  • ছবি থেকে ভিডিওর প্রম্পটে ছবির বর্ণনা না, শুধু কী নড়বে সেটা লিখুন।
  • আগের ক্লিপের শেষ ফ্রেম পরের ক্লিপের শুরুর ছবি করলে জোড়া মসৃণ হয়।

AI স্টোরিবোর্ড কী, আর আগে কেন বানাবেন?

স্টোরিবোর্ড হলো ভিডিওর প্রতিটা শটের একটা করে ছবি, ক্রম অনুযায়ী সাজানো। সিনেমায় এটা হাতে আঁকা হয়, AI দিয়ে আপনি একই কাজ কয়েক মিনিটে করতে পারেন, আর ছবিগুলো পরে সরাসরি ভিডিওর শুরুর ফ্রেম হিসেবেও কাজে লাগে।

সরাসরি লেখা থেকে ভিডিও বানালে প্রতিটা ক্লিপে চরিত্রের মুখ, ঘরের রং আর আলো একটু একটু বদলে যায়। আগে ছবি বানালে আপনি ছবির পর্যায়েই ভুল ধরেন, যেখানে নতুন করে বানানো সস্তা আর দ্রুত।

শর্ট ফিল্মের পুরো পথ, গল্প থেকে শেষ এডিট পর্যন্ত, আছে AI দিয়ে শর্ট ফিল্ম বানানোর লেখায়। এই লেখা সেই পথের মাঝের একটা ধাপ খুঁটিয়ে দেখায়: স্টোরিবোর্ড কীভাবে বানাবেন, আর সেটা থেকে কীভাবে ক্লিপে যাবেন। শর্ট ফিল্ম ছাড়াও অ্যাড, ইতিহাসের ভিডিও বা গানের ভিডিওতে এই পদ্ধতি একইভাবে কাজ করে।

শট লিস্টের টেমপ্লেট কেমন হবে?

প্রতিটা শটের জন্য একটা সারি, আর আটটা কলাম: নম্বর, শটের ধরন, কোণ, কী ঘটছে, জায়গা, আলো, ভিডিওতে কী নড়বে, আর শব্দ। শেষ দুই কলাম ছবি বানানোর সময় লাগে না, কিন্তু আগে লিখে রাখলে পরে ভিডিও ধাপে সময় বাঁচে।

# শট কোণ কী ঘটছে জায়গা ও আলো কী নড়বে শব্দ
১ wide eye level একটা ছেলে সাইকেলে গ্রামের রাস্তায় আসছে মেঠো পথ, ভোরের কুয়াশা সাইকেল সামনে আসে, ক্যামেরা স্থির পাখির ডাক
২ medium side সে স্কুলের গেটে থেমে ব্যাগ ঠিক করছে পুরোনো স্কুল গেট, নরম রোদ হাত ব্যাগের ফিতা টানে দূরে ঘণ্টা
৩ close-up eye level তার মুখে নার্ভাস হাসি একই, পেছন ঝাপসা চোখ নামে, তারপর হাসি নিঃশ্বাস
৪ wide high angle সে মাঠ পেরিয়ে ক্লাসের দিকে হাঁটছে স্কুলের মাঠ, সকাল ক্যামেরা ধীরে ওপরে ওঠে বাচ্চাদের হইচই

শট লিস্ট ChatGPT বা Claude দিয়ে বানাতে পারেন। গল্পটা বাংলায় দিয়ে বলুন: "এই গল্পটা ৬টা শটে ভাগ করে একটা টেবিল বানাও, কলাম: শট, কোণ, কী ঘটছে, জায়গা ও আলো, কী নড়বে, শব্দ। প্রতিটা শটে একটাই কাজ রাখো।" তারপর নিজে পড়ে বাদ দিন যা গল্পে লাগে না।

স্টোরিবোর্ডের ছবির প্রম্পট কীভাবে লিখবেন?

প্রতিটা প্রম্পট তিন ভাগে: একটা স্থির স্টাইল লাইন, একটা স্থির চরিত্রের লাইন, আর সেই শটের নিজস্ব অংশ। প্রথম দুই ভাগ সব শটে অক্ষরে অক্ষরে এক থাকবে, বদলাবে শুধু তৃতীয় ভাগ।

স্টাইল লাইন (সব শটে একই): Cinematic still frame, 16:9, realistic, soft natural light, muted earthy colors, slight film grain, shallow depth of field.

চরিত্রের লাইন (সব শটে একই): A 12 year old Bangladeshi boy, short black hair, white school shirt, navy blue shorts, red school bag with one torn strap.

শট ১ এর অংশ: Wide shot at eye level. The boy rides an old bicycle toward the camera on a narrow village dirt road, early morning mist over the paddy fields on both sides.

শট ৩ এর অংশ: Close-up at eye level. The boy stands at an old school gate with a nervous half smile, background softly blurred.

খেয়াল করুন, চরিত্রের লাইনে একটা চেনার চিহ্ন আছে: ছেঁড়া ফিতার লাল ব্যাগ। এমন একটা ছোট জিনিস পরে প্রতিটা ক্লিপে চোখে পড়ে, আর বদলে গেলে সাথে সাথে ধরা যায়। ছবির প্রম্পটে ক্যামেরা আর আলোর শব্দ কীভাবে লিখবেন, তার বিস্তারিত পাবেন AI ভিডিওর প্রম্পট লেখার গাইডে।

সব ফ্রেমে একই চেহারা আর আলো রাখবেন কীভাবে?

প্রথম শটের সেরা ছবিটা বেছে সেটাকে বাকি সব শটে রেফারেন্স হিসেবে দিন। শুধু লেখা দিয়ে চেহারা এক রাখা কঠিন, রেফারেন্স ছবি আর একই বর্ণনা একসাথে দিলে কাজটা অনেক সহজ হয়।

আলোর জন্য একটা নিয়ম রাখুন: গল্পে সময় না বদলালে আলোর শব্দও বদলাবেন না। সকালের দৃশ্যের মাঝখানে একটা শটে হঠাৎ "golden hour" এসে গেলে পুরো ভিডিওতে সেটা চোখে লাগে।

সব ছবি বানানো হলে একটা গ্রিডে পাশাপাশি রাখুন, ফোনের গ্যালারিতে বা যেকোনো কোলাজ অ্যাপে। একসাথে দেখলে যে ফ্রেমটা আলাদা লাগছে, সেটা সাথে সাথে চোখে পড়ে। দুইজন চরিত্র বা অনেক দৃশ্য হলে কী করবেন, সেটা নিয়ে আছে AI ভিডিওতে চরিত্রের চেহারা এক রাখার লেখা।

ছবি থেকে ভিডিও ক্লিপ বানাবেন কীভাবে?

প্রতিটা স্টোরিবোর্ড ছবি ভিডিও টুলে শুরুর ফ্রেম হিসেবে দিন, আর প্রম্পটে শুধু লিখুন কী নড়বে। ছবিতে যা আছে, সেটা আবার বর্ণনা করার দরকার নেই, ছবিই সেটা বলে দিচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে Google Flow ধরি। Flow Help অনুযায়ী Video থেকে Frames বেছে "Add start frame" এ ছবি দিতে হয়, চাইলে "Add end frame" এও একটা ছবি দেওয়া যায়, তারপর প্রম্পটে লিখতে হয় দুই ফ্রেমের মাঝে কী ঘটবে। Help পাতা প্রম্পটকে দেওয়া ছবির সাথে মিল রাখতে বলে, বিরোধী কিছু না লিখতে বলে, আর জানায় ফিচার দেশভেদে আলাদা হতে পারে (Google Flow Help, ২ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত)।

০১শুরুর ছবি দিনস্টোরিবোর্ডের ছবিটা ভিডিও টুলের start frame এ দিন।
০২নড়াচড়া লিখুনশট লিস্টের "কী নড়বে" কলাম থেকে এক লাইন: কে কী করবে, ক্যামেরা কী করবে।
০৩একটাই ক্যামেরা মুভslow push in বা static, একসাথে কয়েকটা না।
০৪কয়েকটা ভার্সনপ্রতিটা শটের দুই তিনটা ক্লিপ বানিয়ে সেরাটা রাখুন।
০৫ছবির সাথে মেলানক্লিপে মুখ বা ব্যাগ বদলে গেলে সেটা বাদ দিন, এডিটে লুকাবেন না।
ছবি দেখায় কী আছে, প্রম্পট বলে কী নড়বে।

শট ১ এর ভিডিও প্রম্পট: The boy pedals slowly toward the camera, the bicycle wobbles slightly on the dirt road, mist drifts across the fields. Static camera. Birds chirping, soft bicycle chain sound.

দুইটা ক্লিপ মসৃণভাবে জোড়া দেবেন কীভাবে?

আগের ক্লিপের শেষ ফ্রেমটা ছবি হিসেবে বের করে পরের ক্লিপের শুরুর ছবি বানান। তাহলে দুই ক্লিপের মাঝে চরিত্রের অবস্থান, আলো আর পোশাক এক থাকে, আর কাটটা চোখে কম লাগে।

যেখানে দুই শটের মাঝে স্পষ্ট পরিবর্তন চান, যেমন গেট থেকে মাঠে, সেখানে Flow এর মতো টুলে start আর end দুই ফ্রেমই দিতে পারেন: শুরুতে গেটের ছবি, শেষে মাঠের ছবি, প্রম্পটে মাঝের হাঁটাটা। সব টুলে end frame সুবিধা থাকে না, তাই নিজের টুলে দেখে নিন।

সবসময় জোড়া দেওয়ার দরকারও নেই। সিনেমায় বেশিরভাগ কাট সরাসরি এক শট থেকে আরেক শটে যায়। শুধু একটানা চলা কাজ, যেমন হাঁটা বা দরজা খোলা, দুই ক্লিপে ভাগ হলে এই শেষ ফ্রেমের কৌশল লাগে।

ভিডিওতে নেওয়ার আগে কী যাচাই করবেন?

ছবি পর্যায়েই পাঁচটা জিনিস মিলিয়ে নিন, কারণ ভিডিওতে গিয়ে ভুল ধরলে ক্রেডিট আর সময় দুটোই বেশি যায়।

যাচাই কী দেখবেন
চরিত্র সব ফ্রেমে একই মুখ, চুল, পোশাক আর চেনার চিহ্ন
আলো ও সময় গল্পের সময় অনুযায়ী আলো, হঠাৎ বদল নেই
দিক চরিত্র এক শটে বাঁ থেকে ডানে গেলে পরের শটেও একই দিকে
ফ্রেমের মাপ সব ছবি একই মাপে, যেমন ১৬:৯ বা ৯:১৬
গল্প শুধু ছবিগুলো পরপর দেখলেও গল্পটা বোঝা যায়

শেষ পরীক্ষাটাই সবচেয়ে কাজের। শুধু স্টোরিবোর্ডের ছবি পরপর দেখে কাউকে গল্পটা বলতে বলুন। সে বুঝলে ভিডিও ধাপে যান, না বুঝলে শট যোগ বা বাদ দিন, এখনো সেটা সস্তা।

তথ্যসূত্র: Google Flow Help, Create videos in Google Flow. সর্বশেষ যাচাই: ২ নভেম্বর ২০২৬।

সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়

AI storyboard বানাতে কোন টুল লাগে?
ছবির জন্য যেকোনো AI ছবির টুল, যেমন ChatGPT বা Gemini, আর ক্লিপের জন্য এমন ভিডিও টুল যেটা ছবি থেকে ভিডিও বানাতে পারে, যেমন Google Flow। শট লিস্টের জন্য ChatGPT বা Claude যথেষ্ট।
স্টোরিবোর্ড ছাড়া সরাসরি লেখা থেকে ভিডিও বানালে সমস্যা কী?
প্রতিটা ক্লিপে চরিত্রের মুখ, রং আর আলো একটু করে বদলে যায়, আর ভুল ধরা পড়ে দামি ভিডিও ধাপে। ছবিতে আগে ঠিক করলে নতুন করে বানানো সস্তা আর দ্রুত হয়।
একটা ভিডিওর জন্য কয়টা স্টোরিবোর্ড ছবি লাগে?
যতগুলো শট, ততগুলো ছবি। প্রতিটা শটে একটাই কাজ রাখুন। শুরুতে ছোট গল্প নিন, অল্প কয়েকটা শট দিয়ে, পুরো পদ্ধতিটা একবার হাতে কলমে করে দেখুন।
ছবি থেকে ভিডিওর প্রম্পটে কী লিখব?
শুধু কী নড়বে আর ক্যামেরা কী করবে, সাথে শব্দ। ছবিতে যা আছে তা আবার বর্ণনা করবেন না, আর ছবির সাথে বিরোধী কিছু লিখবেন না।
দুই ক্লিপের মাঝে চরিত্র লাফিয়ে যায়, কী করব?
আগের ক্লিপের শেষ ফ্রেম ছবি হিসেবে নিয়ে পরের ক্লিপের শুরুর ছবি বানান। টুলে end frame সুবিধা থাকলে দুই শটের ছবি দুই প্রান্তে দিয়ে মাঝের নড়াচড়া লিখুন।

AI ভিডিও হাতে কলমে শিখতে চাইলে

AI ভিডিও মেকিং Masterclass এ স্ক্রিপ্ট, ছবি, ভয়েস আর এডিট থেকে শুরু করে পুরো ভিডিও বানানো বাংলায় ধাপে ধাপে দেখানো আছে।

AI ভিডিও মেকিং কোর্সটা দেখুন

চেহারা না দেখিয়ে ইউটিউব: AI ভিডিও থেকে আয়ের ব্লুপ্রিন্ট বইয়ের কভার
এই লেখার পরের ধাপ, ফ্রি বাংলা বই

চেহারা না দেখিয়ে ইউটিউব: AI ভিডিও থেকে আয়ের ব্লুপ্রিন্ট

নিজের চেহারা না দেখিয়ে AI ভিডিও দিয়ে চ্যানেল চালানোর ধাপগুলো, শুরু থেকে মনিটাইজেশন পর্যন্ত।

বইটা ফ্রি নিন

অন্য কাজের বই খুঁজছেন? পুরো লাইব্রেরি, ১৩টা বই

বিষয়
নাসির উদ্দিন শামীম
লেখক

নাসির উদ্দিন শামীম

ঢাকা থেকে বলছি। ইন্টারনেট মার্কেটিং করি, আর নতুন কোনো এআই টুল বের হলেই সেটা ধরে দেখি কাজে লাগে কি না। যেটা সত্যিই কাজের, সেটা নিয়ে ফেসবুক আর ইউটিউবে কথা বলি। এখানে সেই জিনিসগুলোই গুছিয়ে শেখানোর চেষ্টা করি, যাতে আপনি নিজেও কাজে লাগাতে পারেন।

পরের ধাপ

বিষয়টা বুঝেছেন, এবার হাতে কলমে শিখে কাজ শুরু করুন।

৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দেবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।

Nasir Uddin Shamim

Nasir Uddin Shamim

সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিই, সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা।

এখন অফলাইনে আছি। মেসেজ রেখে যান, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দেব, সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা।

Nasir Uddin Shamim
আসসালামু আলাইকুম 👋
আমি নাসির উদ্দিন শামীম। কীভাবে সাহায্য করতে পারি?