AIinBangla

AI দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানিয়ে Play Store-এ পাবলিশ করার নিয়ম

AI দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানানো নিয়ে লেখা

AI দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ বানানো এখন সত্যিই সম্ভব, কোড না জেনেও। কিন্তু অ্যাপ বানানো আর অ্যাপ Play Store-এ ওঠানো দুটো আলাদা কাজ, আর মানুষ আটকায় দ্বিতীয়টায়। বানানোয় লাগে কয়েক দিন, পাবলিশ হতে লাগে অন্তত দুই সপ্তাহ, কারণ গুগলের নিজস্ব একটা নিয়ম আছে যেটা বেশিরভাগ গাইডে বলা থাকে না।

এক নজরে

  • ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট একবারের খরচ ২৫ ডলার, প্রতি বছরের না।
  • নতুন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে অ্যাপ পাবলিশ করার আগে ১২ জন টেস্টার দিয়ে ১৪ দিন টেস্ট করাতে হয়। এখানেই সবাই আটকায়।
  • প্রাইভেসি পলিসির একটা লিংক লাগবেই, না থাকলে অ্যাপ রিজেক্ট হবে।
  • সহজ অ্যাপ, যেমন ক্যালকুলেটর বা নোটবুক, AI দিয়ে ভালো হয়। পেমেন্ট বা লগইনওয়ালা অ্যাপে মানুষের হাত লাগে।
  • প্রথম অ্যাপটা ইনকামের জন্য না, প্রক্রিয়াটা শেখার জন্য বানান।

AI আসলে কতটুকু পারে

সৎ উত্তরটা হলো, ধরনভেদে অনেকটাই বা প্রায় কিছুই না। কোড না জেনে অ্যাপ বানানো নিয়ে আলাদা একটা লেখা আছে, যেখানে ভাইব কোডিং জিনিসটা কী তা বোঝানো আছে। যে অ্যাপে শুধু ফোনের ভেতরেই সব হয়, সেটা AI প্রায় পুরোটাই লিখে দিতে পারে। যেখানে সার্ভার, ইউজারের অ্যাকাউন্ট বা টাকা জড়িত, সেখানে AI কোড লিখে দিবে ঠিকই, কিন্তু সেটা নিরাপদ কিনা বোঝার জন্য আপনাকে জানতে হবে।

অ্যাপের ধরন AI দিয়ে কতদূর বাস্তব সময়
ক্যালকুলেটর, কনভার্টার, নোটবুক প্রায় পুরোটাই ২ থেকে ৪ দিন
কুইজ, ফ্ল্যাশকার্ড, দোয়া বা রেসিপি সংগ্রহ পুরোটাই, ডেটা আপনি দিবেন ৩ থেকে ৭ দিন
খরচের হিসাব, টু ডু লিস্ট বেশিরভাগ ৫ থেকে ১০ দিন
লগইন আর সার্ভার লাগে এমন অ্যাপ অর্ধেক, বাকিটা বুঝে করতে হয় কয়েক সপ্তাহ
পেমেন্ট নেওয়া অ্যাপ কোড পাবেন, দায়িত্ব আপনার শেখা ছাড়া করবেন না

প্রথম অ্যাপ হিসেবে উপরের দিক থেকে বেছে নিন। উদ্দেশ্য এখানে টাকা কামানো না, পুরো প্রক্রিয়াটা একবার শেষ পর্যন্ত করা।

যা যা লাগবে, শুরুর আগে

০১একটা গুগল অ্যাকাউন্টযেটা দিয়ে ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট খুলবেন। ব্যক্তিগত ইমেইল হলেই চলবে।
০২২৫ ডলারএকবারের রেজিস্ট্রেশন ফি। আন্তর্জাতিক কার্ড বা যে কার্ডে ডলার খরচ করা যায়।
০৩একটা কম্পিউটারঅ্যাপ বানানো আর ফাইল তৈরির কাজে লাগবে। ফোনে পুরোটা হবে না।
০৪১২ জন পরিচিত মানুষটেস্টার হিসেবে। এটা এখন গুগলের বাধ্যতামূলক নিয়ম, আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
চার নম্বরটা আগে ভাবুন। অ্যাপ বানানোর পর টেস্টার খুঁজতে গেলে দুই সপ্তাহ বাড়তি যায়।

বানানোর ধাপ: AI-কে কীভাবে বলবেন

AI-কে “একটা অ্যাপ বানিয়ে দাও” বললে যা আসে তা দিয়ে কিছু হয় না। যেটা কাজ করে সেটা হলো ছোট ছোট টুকরো করে চাওয়া। আগে বলুন অ্যাপটা কী করবে, কার জন্য, আর কয়টা স্ক্রিন থাকবে। তারপর এক স্ক্রিন ধরে ধরে বানান।

প্রতিটা ধাপে বানানো জিনিসটা চালিয়ে দেখুন। কাজ করলে পরের ধাপে যান, না করলে ভুলের বার্তাটা হুবহু কপি করে AI-কে দিন। এই একটা অভ্যাসেই কাজের গতি কয়েক গুণ বাড়ে। পুরো অ্যাপ একবারে বানিয়ে শেষে চালাতে গেলে কোথায় ভাঙল তা খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।

যে ভুলটা প্রায় সবাই করে: AI যা দিয়েছে সেটা কাজ করছে দেখেই খুশি হয়ে এগিয়ে যাওয়া, কোডটা কী করছে না বুঝেই। পরে যখন কিছু ভাঙে, তখন ঠিক করার উপায় থাকে না। প্রতিটা ধাপে অন্তত এক লাইনে নিজেকে বলুন, এই অংশটা কী কাজ করে।

Play Store: আসল বাধাটা এখানে

২০২৩ সালের পর খোলা ব্যক্তিগত ডেভেলপার অ্যাকাউন্টের জন্য গুগল একটা নিয়ম চালু করেছে। অ্যাপ সবার জন্য ছাড়ার আগে আপনাকে ক্লোজড টেস্টিং চালাতে হবে, অন্তত ১২ জন টেস্টার নিয়ে, টানা ১৪ দিন। এই ১২ জনকে আপনার অ্যাপটা ইনস্টল করে রাখতে হবে ওই পুরো সময়টা।

এটা জানা না থাকলে মানুষ অ্যাপ বানিয়ে আপলোড করে বসে থাকে আর বুঝতে পারে না কেন পাবলিশ হচ্ছে না। তাই কাজ শুরু করার দিনই ১২ জনের একটা তালিকা বানিয়ে ফেলুন, বন্ধু বা পরিবারের সদস্য, যাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোন আছে। তাদের জিমেইল ঠিকানা লাগবে।

নিয়মগুলো গুগল মাঝে মাঝে বদলায়, তাই কাজ শুরু করার আগে Play Console-এর নিজের পাতায় শর্তগুলো একবার দেখে নেওয়া ভালো।

পাবলিশ করার তালিকা

যা লাগবে কেন না থাকলে
অ্যাপ আইকন আর স্ক্রিনশট স্টোরের পাতায় দেখাবে জমা দেওয়াই যাবে না
প্রাইভেসি পলিসির লিংক অ্যাপ কী তথ্য নেয় তা জানানো বাধ্যতামূলক রিজেক্ট
কনটেন্ট রেটিং ফরম বয়স অনুযায়ী শ্রেণিবিভাগ রিজেক্ট
ডেটা সেফটি ফরম কোন ডেটা সংগ্রহ করেন তার ঘোষণা রিজেক্ট
টার্গেট API লেভেল গুগল প্রতি বছর সর্বনিম্ন লেভেল বাড়ায় পুরনো হলে আপলোড আটকাবে
১২ জন টেস্টার, ১৪ দিন নতুন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের নিয়ম প্রোডাকশনে যাওয়ার আবেদনই করা যাবে না

প্রাইভেসি পলিসি নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। অ্যাপটা কী তথ্য নেয় আর কী করে, সেটা সহজ ভাষায় লিখলেই হয়। AI-কে দিয়ে খসড়া লিখিয়ে নিজে পড়ে ঠিক করে নিন, তারপর যেকোনো ফ্রি পেজে রেখে লিংকটা দিন। মিথ্যা লিখবেন না, কারণ গুগল ধরলে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়।

টাকা আসে কোথা থেকে

প্রথম অ্যাপে সাধারণত আসে না, এটা আগে জেনে রাখা ভালো। যাদের আসে, তাদের তিনটা পথের কোনো একটা দিয়ে আসে। বিজ্ঞাপন, যেটা কাজ করতে হলে অনেক ইউজার লাগে। অ্যাপের ভেতরে টাকা নিয়ে বাড়তি সুবিধা দেওয়া, যেটার জন্য অ্যাপটা আগে কারো কাজে লাগতে হবে। আর তৃতীয়টা, যেটা বাংলাদেশে সবচেয়ে বাস্তব, অন্যের জন্য অ্যাপ বানিয়ে দেওয়া।

ক্লায়েন্ট ধরার দিক থেকে তৃতীয়টাই সবচেয়ে দ্রুত। একটা ছোট ব্যবসার নিজস্ব অ্যাপ, একটা কোচিং সেন্টারের রুটিন অ্যাপ, একটা দোকানের অর্ডার অ্যাপ। আপনার প্রথম অ্যাপটাই তখন পোর্টফোলিও হিসেবে কাজ করে, দেখানোর মতো কিছু একটা আছে বলেই কাজটা পাওয়া যায়।

বাস্তব শিডিউল

০১দিন ১ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট খুলুন, ফি দিন। যাচাই হতে কয়েক দিন লাগতে পারে, তাই সবার আগে।
০২দিন ২ থেকে ৭অ্যাপ বানান, স্ক্রিন ধরে ধরে। প্রতিদিন যা বানালেন তা ফোনে চালিয়ে দেখুন।
০৩দিন ৮আইকন, স্ক্রিনশট, প্রাইভেসি পলিসি, ফরমগুলো পূরণ।
০৪দিন ৯ থেকে ২৩ক্লোজড টেস্ট, ১২ জন টেস্টার নিয়ে ১৪ দিন। এই সময়টা কমানোর উপায় নেই।
০৫দিন ২৪প্রোডাকশনের আবেদন। রিভিউতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
বানানোর সময়ের চেয়ে অপেক্ষার সময় বেশি। প্রথম দিনেই অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সচরাচর প্রশ্ন

কোড না জানলে সত্যিই অ্যাপ বানানো যাবে?
সহজ অ্যাপ যাবে। তবে “কোড জানি না” আর “কোড পড়তে পারি না” এক জিনিস না। কাজ করতে করতে আপনি কোড পড়তে শিখে যাবেন, আর সেটাই দরকার। AI লিখবে, আপনি বুঝবেন কোনটা কী করছে।
২৫ ডলার কি প্রতি বছর দিতে হয়?
না, এটা একবারের ফি। একবার দিলে ওই অ্যাকাউন্টে যত খুশি অ্যাপ দেওয়া যায়। অ্যাপল-এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা আলাদা, ওখানে বছরে দিতে হয়।
বাংলাদেশ থেকে ফি দেওয়া যায়?
যায়, আন্তর্জাতিক লেনদেন চালু আছে এমন কার্ড দিয়ে। অনেকে ব্যাংকের ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ব্যবহার করেন। কার্ডে ডলার এনডোর্সমেন্ট করা আছে কিনা ব্যাংকে জিজ্ঞেস করে নিন।
১২ জন টেস্টার না পেলে কী হবে?
প্রোডাকশনে যাওয়ার আবেদন করা যাবে না। অ্যাপটা টেস্টারদের জন্য চালু থাকবে, কিন্তু সবার জন্য খুলবে না। এজন্যই টেস্টারের তালিকা আগে বানিয়ে রাখতে বলা হচ্ছে।
অ্যাপ রিজেক্ট হলে কী করব?
গুগল কারণ লিখে জানায়। বেশিরভাগ রিজেকশনের কারণ প্রাইভেসি পলিসি বা ডেটা সেফটি ফরমে ভুল তথ্য। ঠিক করে আবার জমা দেওয়া যায়, আলাদা ফি লাগে না।
AI দিয়ে বানানো অ্যাপ গুগল ধরতে পারবে?
গুগল দেখে অ্যাপটা কাজ করে কিনা আর নিয়ম মানে কিনা, কে লিখেছে তা না। কিন্তু কপি করা অ্যাপ বা একই অ্যাপ নাম বদলে বারবার দেওয়া ধরা পড়ে, আর তাতে অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আইফোনের জন্যও কি একইভাবে বানানো যাবে?
বানানো যাবে, কিন্তু পাবলিশ করা কঠিন। অ্যাপল-এর ফি বছরে ৯৯ ডলার আর রিভিউ অনেক বেশি কড়া। অ্যান্ড্রয়েড দিয়ে শুরু করাই যুক্তিসঙ্গত।

হাতে কলমে শিখতে চাইলে

অ্যাপ বানানো থেকে Play Store-এ পাবলিশ করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে দেখানো আছে কোর্সের ভেতরে, সাথে Chrome এক্সটেনশন বানানোর আলাদা সেশন।

গাইডটা পড়ুন

বিষয়
নাসির উদ্দিন শামীম
লেখক

নাসির উদ্দিন শামীম

ঢাকা থেকে বলছি। ইন্টারনেট মার্কেটিং করি, আর নতুন কোনো এআই টুল বের হলেই সেটা ধরে দেখি কাজে লাগে কি না। যেটা সত্যিই কাজের, সেটা নিয়ে ফেসবুক আর ইউটিউবে কথা বলি। এখানে সেই জিনিসগুলোই গুছিয়ে শেখানোর চেষ্টা করি, যাতে আপনি নিজেও কাজে লাগাতে পারেন।

পড়া শেষ?

লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে

৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।

Nasir Uddin Shamim

Nasir Uddin Shamim

Typically replies within 5-10 minutes.

I will be back soon

Nasir Uddin Shamim
Hey there 👋
It’s your friend Nasir Uddin Shamim. How can I help you?