AI কি আপনার চাকরি খেয়ে ফেলবে? সৎ উত্তরটা হলো, নির্ভর করে
কোন ধরনের কাজ AI-এর কারণে সত্যিই ঝুঁকিতে, কোনগুলো না, আর নিজেকে বাঁচানোর বাস্তব উপায় কী।
AI পুরো চাকরি খুব কমই মুছে দেয়। যা মুছে দেয় তা হলো কাজের ভেতরের নির্দিষ্ট ধাপগুলো। যাদের চাকরির প্রায় পুরোটাই একঘেয়ে পুনরাবৃত্তি, তাদের ঝুঁকি বেশি। যাদের কাজে সিদ্ধান্ত, মানুষের সাথে সম্পর্ক বা হাতের কাজ জড়িত, তাদের ঝুঁকি কম। বাস্তবে যা ঘটছে তা হলো, AI ব্যবহার করতে জানা লোক, না জানা লোকের জায়গা নিচ্ছে।
এক নজরে
- ঝুঁকি নির্ভর করে কাজের ধাপের উপর, পদের নামের উপর না।
- যে কাজে একই জিনিস বারবার লেখা বা সাজাতে হয়, সেটা সবচেয়ে আগে বদলাবে।
- সম্পূর্ণ নিরাপদ কোনো কাজ নেই, কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার মতোও কিছু না।
- সবচেয়ে ভালো প্রতিরক্ষা, AI-কে নিজের কাজে ব্যবহার করতে শিখে ফেলা।
প্রশ্নটা ভুলভাবে করা হয়
“AI কি আমার চাকরি নিবে?”, এই প্রশ্নের উত্তর প্রায় সবসময় “না, পুরোটা না”। কিন্তু “আমার কাজের কোন অংশগুলো AI দ্রুত করে দিতে পারে?”, এই প্রশ্নের উত্তর প্রায় সবার জন্যই “অনেকগুলো”। দ্বিতীয় প্রশ্নটাই কাজে লাগে।
কোন কাজে ঝুঁকি বেশি
| ঝুঁকি | ধরন | উদাহরণ |
|---|---|---|
| বেশি | একঘেয়ে লেখা ও ডেটা সাজানো | সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং, ডেটা এন্ট্রি, প্রাথমিক অনুবাদ, টেমপ্লেট ডিজাইন |
| মাঝারি | বিশ্লেষণ ও সাপোর্ট | জুনিয়র মার্কেটিং, রিপোর্ট তৈরি, প্রথম স্তরের কাস্টমার সাপোর্ট |
| কম | সিদ্ধান্ত ও সম্পর্ক | বিক্রি, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষকতা, পরামর্শ, নেগোসিয়েশন |
| খুব কম | হাতের কাজ ও উপস্থিতি | ইলেকট্রিশিয়ান, নার্স, রাঁধুনি, টেকনিশিয়ান, নির্মাণ |
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যা আলাদা
আমাদের এখানে ফ্রিল্যান্সিং আর আউটসোর্সিং-এর একটা বড় অংশ ছিল সস্তায় সাধারণ কাজ করে দেওয়া, লেখা, ডেটা এন্ট্রি, বেসিক ডিজাইন। ঠিক এই কাজগুলোই AI সবচেয়ে ভালো করে। এটাই খারাপ খবর।
ভালো খবর হলো, এতদিন যেসব কাজ আমাদের নাগালের বাইরে ছিল, ভিডিও প্রোডাকশন, অ্যানিমেশন, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট, অটোমেশন, সেগুলো এখন একজন মানুষের পক্ষেই করা সম্ভব। যারা এই দিকে সরে যাচ্ছে, তাদের ইনকাম বাড়ছে।
যা করলে নিরাপদ থাকবেন
একটা কথা বারবার প্রমাণিত হচ্ছে: AI একজন মানুষের জায়গা নিচ্ছে না, AI ব্যবহার করতে জানা একজন মানুষ, না জানা একজনের জায়গা নিচ্ছে।
নিজের ঝুঁকি নিজে মাপার একটা মেথড
সাধারণ কথা শুনে দুশ্চিন্তা বাড়ে, হিসাব করলে কমে। এক সপ্তাহ ধরে নিজের কাজের একটা লিস্ট রাখুন, তারপর প্রতিটা কাজকে দুটো প্রশ্নে ফেলুন: এটা করতে কি নতুন কিছু ভাবতে হয়? আর ভুল হলে কি সাথে সাথে ধরা পড়ে?
| নতুন ভাবনা লাগে? | ভুল ধরা পড়ে? | মানে |
|---|---|---|
| না | হ্যাঁ | সবচেয়ে আগে বদলাবে। এই অংশটা আপনিই স্বয়ংক্রিয় করে ফেলুন |
| না | না | বদলাবে, তবে ধীরে, কারণ ভুলের ঝুঁকি বেশি |
| হ্যাঁ | হ্যাঁ | AI সহকারী হিসেবে কাজে লাগবে, বদলি হিসেবে না |
| হ্যাঁ | না | সবচেয়ে নিরাপদ। এখানেই আপনার সময় দেওয়া উচিত |
বাংলাদেশে কোন খাতে কী হচ্ছে
ফ্রিল্যান্সিং। সাধারণ লেখা, ডেটা এন্ট্রি আর বেসিক ডিজাইনের কাজ কমছে, রেটও পড়ছে। বিপরীতে ভিডিও, অটোমেশন আর অ্যাপের কাজ বাড়ছে এবং সেখানে দক্ষ লোক কম।
অফিসের চাকরি। রিপোর্ট বানানো, ইমেইল লেখা আর ডেটা সাজানোর সময় কমছে। যারা এই সময়টা কাজে লাগিয়ে বেশি কাজ করছেন, তারা এগোচ্ছেন। যারা আগের গতিতেই আছেন, তারা পিছিয়ে পড়ছেন।
শিক্ষকতা ও পরামর্শ। প্রায় অক্ষত। মানুষ মানুষের কাছ থেকেই শিখতে চায়, বিশেষ করে যখন আটকে যায়।
হাতের কাজ। ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ান, নার্স, রাঁধুনি। এখানে প্রভাব সবচেয়ে কম, আর সেটা অনেক দিন এমনই থাকবে।
ছয় মাসে যা করলে অবস্থান শক্ত হয়
যে ভয়টা অতিরিক্ত
প্রতিটা বড় প্রযুক্তির সময়ই মনে হয়েছে কাজ ফুরিয়ে যাবে। কম্পিউটার আসার পর হিসাবরক্ষকের সংখ্যা কমেনি, কাজের ধরন বদলেছে। এখনো তাই হচ্ছে। পার্থক্য শুধু গতিতে, এবার বদলটা দ্রুত, তাই অপেক্ষা করার সময় কম।
সচরাচর যা জিজ্ঞেস করা হয়
এখন নতুন করে কোন স্কিল শেখা উচিত?
প্রোগ্রামিং শেখা কি এখনো কাজে লাগবে?
আমার বয়স বেশি, এখন শেখা কি সম্ভব?
আমার প্রতিষ্ঠান AI ব্যবহার করতে দেয় না, কী করব?
কোন চাকরিগুলো নতুন করে তৈরি হচ্ছে?
কোথা থেকে শুরু করবেন
কোন কাজে কত টাকা, কোন সেশন কী কাজে লাগে আর প্রথম সাত দিনে কী করবেন, পুরো গাইড এক জায়গায় সাজানো আছে।
সম্পর্কিত লেখা
লেখা পড়ে ভালো লাগলে, করে দেখলে আরও ভালো লাগবে
৩০ সেকেন্ডের কুইজ বলে দিবে আপনার অবস্থায় কোন কোর্সটা লাগবে।