কি যুগ আসলো, পোস্ট যতো ছোট হয় – Dollar ততো বেশী 🙂
আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রফেশনাল ব্লগার।
ব্লগিং এ গত ২০ বছর যাবত একটা জিনিস আমরা করেছি এবং স্টুডেন্টদের শিখিয়েছি যে, Write comprehensive, detailed and super long article – যাতে করে সার্চ ইঞ্জিন্সগুলোর মাথা খারাপ হয়ে যায় 🙂
কিন্তু দিন পাল্টেছে, মানুষের এটেনশন স্প্যান কমে গেছে, লম্বা আর্টিকেলের হার কমে গেছে, সার্চ ইঞ্জিন এখন চাঙ্ক বাই চাঙ্ক আর্টিকেল প্রিফার করে, এআই মডেলগুলো চাঙ্ক বাই চাঙ্ক শর্ট আর্টিকেলকে, ইভেন একটা ছোট প্যারাগ্রাফকে রিকমেন্ড করে!
সোশ্যাল মিডিয়াতে লঙ ফর্মের আর্টিকেলে এল্গোরিদমের চাবুক চালানো তো আছেই!
AEO এর বদৌলতে গুগল এখন জেমিনি হয়ে গেছে…এইখানেও short আর precise কন্টেন্ট এর গুরুত্ব বেশী!
যাই হউক – লঙ ফর্ম কন্টেন্ট থেকে ফেসবুকের জন্যে শর্ট ফর্ম কন্টেন্ট লিখতে গিয়ে কখনো টাকা পাবো সেটা ভাবিনি!
বিজ্ঞাপনদাতা আর ফেসবুক এর মানিটাইজেশন সিস্টেমকে একটা ধন্যবাদ দিতেই হয়!
ছবি, অল্প স্বল্প লেখা, কিংবা অদ্ভুত সব শর্ট ভিডিও করেও অনেককে নিজের প্লাটফর্মে টেনে আনার আইডিয়াটা দারুণ!
তবে আমি – সবচেয়ে বেশী ধন্যবাদ দিবো এআই কে…
কারণ, এআই না আসলে হয়তো আমি এতো বেশী সময় এখানে দিতে পারতাম না! হাজারো রকমের ব্লগ আর প্রজেক্টের ভারে হাপিত্যেশ করতে করতে দিন, মাস, বছর পার হয়ে যেতো!
ভাগ্যিস আমি কন্টেন্ট প্লানিং, রিসার্চিং, কন্টেন্ট স্ট্রাকচারিং, ফরম্যাটিং – ইভেন অটোমেটেড Scheduling সব জায়গায় এআই এর হেল্প পাচ্ছি।
আমি অবশ্য Viral AI Content Framework নামে একটা ফ্রেমওয়ার্ক বানিয়েছি – যেটা এখন পর্যন্ত ৯৯.৯৯% অব টাইম কাজ করছে …জানিনা এইটা কতোদিন কাজ করবে, তবে আমি আশাবাদী।
নতুন যারা শুরু করতে চাচ্ছেন, আমি বলবো – নিশ নিয়ে প্রথমেই মাথা ঘামাবেন না, নিজের ভালো লাগে এমন সব কন্টেন্ট বানানো শুরু করুন। সেটা হতে পারে টেক্সট বা ছবি বা ভিডিও। বিভিন্ন ধরনের আইটেম এবং ইন্ডাস্ট্রি কভার করুন – তারপর দেখুন কোন ধরনের বা কোন টাইপের কন্টেন্ট মানুষ পছন্দ করছে – Double down on that then…
হুক নিয়ে পড়াশুনা করুন, এটেনশন সাইকোলজি নিয়ে পড়াশুনা করুন, ফেইসবুক অ্যাড থেকে ইনকাম করতে হবে এমন ধারণা থেকে বের হয়ে এসে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল মানিটাইজিং মেথড নিয়ে পড়াশুনা করুন।
এআই-কে অনেকে অনেক ভাবে কাজ লাগাচ্ছে – আপনার সব শেখার দরকার নাই, ১০০ জন মানুষ ১০০ টা মেথড শেয়ার করবে ফেইসবুকে, সব আপনার জানার দরকার নাই, সামনে স্ক্রিনশট আসলেই ঝাঁপাইয়া পরবেন না আগেই।
জাস্ট একটা জানুন – তারপর সেটার উপরে ১০০% ফোকাস দিন। ভালো করে শেখা হয়ে গেলে, রিলেটেড স্কিল বাড়ান। যেমন এখন কন্টেন্ট মেকিং শিখলেন – তারপর শিখবেন সোশাল মিডিয়া কন্টেন্ট এর পাশাপাশি ওয়েবসাইট কন্টেন্ট কিভাবে কাজ করে এবং র্যাঙ্ক করে (SEO) এইসব।
আপনাকে আপনার চাকরি ছাড়তে হবে না, ব্যাবসা ছাড়তে হবে না, নিজের সংসার ছাড়তে হবে না – প্রতিদিন ৩-৪ ঘণ্টা সময় স্ক্রলিং বাদ দিয়ে, হাবিজাবি রিল দেখা বাদ দিয়ে স্কিলে সময় দিন।
একটা সময় এই প্রোডাক্ট বানানো কঠিন কোন ব্যাপার হবে না – বরং সেই প্রোডাক্টটাকে অরগানিকভাবে (SEO অথবা কন্টেন্ট মার্কেটিং), ভালো কন্টেন্ট দিয়ে (YouTube এবং ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম অথবা Tiktok) কিভাবে বেশিরভাগ মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় – সেটাই হবে সবচেয়ে বড় স্কিল।
আপনার অফিস জব হয়তো টেকনোলজি কেড়ে নিতে পারবে – কিন্তু কন্টেন্ট বানিয়ে লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছানোর যেই ব্যাপারটা – এই স্কিলটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
অনেকে আমাকে ইনবক্স করে যে – ভাই কিছু করতে চাই অনলাইনে, একটু গাইড করেন।
এই পোস্টটাই আপনার জন্যে গাইডলাইন, একটা কমপ্লিট ব্লুপ্রিন্ট যেখানে বার বার ফিরে আসুন, বার বার পড়ুন।
তারপর কাজে নেমে পড়ুন…
নিজের জন্যে…
নিজের ভবিষ্যতের জন্যে…